ফিফা বিশ্বকাপের আগে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে। এ নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়েছিল সেসময়। হঠাৎ মার্কিন রাষ্ট্রপতি সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদরা একটি অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সদস্যদের করা এক তদন্তে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে অনীহার আচরণ দেখান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।
হাউস জুডিসিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাটরা জানান, কমিটির একজন সদস্যের ব্যাপক অনুরোধ সত্ত্বেও ইনফান্তিনো কমিটির সামনে হাজির হতে বা নথি পাঠাতে সাড়া দেননি। কমিটির শীর্ষস্থানীয় সংখ্যালঘু সদস্য ডেমোক্র্যাট জেমি রাসকিন, ২৬ জুলাই ইনফান্তিনোকে চিঠি লেখেন। যেখানে ফিফা প্রধানকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের আনুকূল্য লাভের জন্য ফিফার একটি ধারাবাহিক প্রচারণার বিষয়ে তিনি তদন্ত শুরু করছেন। ইনফান্তিনোকে অনুরোধ করা হয় নথিগুলোসহ ৯ আগস্টের মধ্যে চিঠির জবাব দিতে। সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণের জন্য কমিটির সাথে যোগাযোগও করতে বলা হয়েছিল। ফিফা সভাপতি কিছুরই জবাব দেননি।
চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে যখন তিনি রাষ্ট্রপতিকে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান করেন। টুর্নামেন্টের পর সামনে আসে, ইনফান্তিনো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। যেখানে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থ্রাইভ ইটার্নাল প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে থাকবে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো পরে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন।
হাউস জুডিসিয়ারি ডেমোক্র্যাটসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘যদিও কমিটির কর্মীরা ফিফার ঘুষ কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত মামলা মোকদ্দমার বিষয়ে একটি ব্রিফিং পেয়েছেন। ফিফা এখনও কমিটির অনুরোধ করা কোন অগ্রাধিকারমূলক নথি হস্তান্তর করেনি। যার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প পরিবারকে ফিফার দেয়া অর্থের পরিমাণ প্রকাশকারী নথি, ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান সংক্রান্ত মূল প্রশ্নের উত্তর, বা বিশ্বকাপ বিক্রি করে দেয়ার কুশনার-ইনফান্তিনো পরিকল্পনাটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল তার ব্যাখ্যা।’
বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বিক্রয় করার পরিকল্পনা নিয়ে বেশ চাপে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। পরে ইউরো, এএফসি ফেডারেশনগুলোর চাপে পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। তার সভাপতি পদ নিয়েও সংশয় শুরু হয় সেসময়। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন সরাসরি তার পদত্যগ দাবি করেছিল। সবকিছুর জন্য ক্ষমা চাওয়ার পর, বিষয়গুলো কিছুটা শিথিল হয়। সংকটগ্রস্ত অবস্থায় আগামী বছর মার্চে ইনফান্তিনো ফিফার সভাপতিত্ব পদে চার বছরের মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।









