ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ জন্য একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তেল ও গ্যাস পরিবহনে হরমুজ প্রণালির ওপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নির্ভরতা কমানো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, ইরাক ও জর্ডানকে সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। এতে মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত তহবিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যালাইড ট্রাস্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’, সংক্ষেপে ‘প্যাক্ট’ (Pact)।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হওয়ার আগে এই তহবিল গঠন করা হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, নতুন করে নির্মিত জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তহবিলটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনকে। সংস্থাটি বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগে সহায়তা করে। সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে সংস্থাটি।
ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথও হুমকির মুখে পড়ে। তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এসব রুটে সংকট তৈরি হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল ও গ্যাস পরিবহনের বিকল্প নিরাপদ পথ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপসাগরীয় নিরাপত্তা গবেষক উমের করিম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি সংঘাতের আগে যে অবস্থায় ছিল, স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদে তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না এমন উপলব্ধি উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং ইরাকের মধ্যেও তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রণালিটি এড়িয়ে যেতে পারে এমন কার্যকর, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পরিবহন পথ ও করিডোর তৈরিতে তাদের কাজ করতে হবে।









