কবীর ও ফকির লালন শাহের ভাবদর্শন ও সংগীতকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিভাগে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব।
ঢাকার পর গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
ফকির লালন শাহের বাণী-‘ভক্ত কবীর জাতে জোলা প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা, ধরেছে সে ব্রজের কালা দিয়ে সর্বস্ব ধন তাই’—কে উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে।
খুলনার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ খালেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মণ্ডল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননান।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা থেকে আগত ‘কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশন’-এর শিল্পীরা কবীরের ১০টি এবং লালনের ১০টি গান পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় দুই সাধকের দর্শন, মানবতাবাদ ও প্রেমভাবনার নানা দিক উঠে আসে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, খুলনার পর দেশের আরও কয়েকটি জেলায় পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রবীণ বাউলশিল্পী তারা মিয়া বাউল।
২ অক্টোবর রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উদ্বোধন করবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. মাসুদ চৌধুরী। ৪ অক্টোবর রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উদ্বোধন করবেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আনিসুর রহমান।
এরপর ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট বংশীবাদক ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম। ৩০ অক্টোবর একই সময়ে সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গল শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উদ্বোধন করবেন লেখক-গবেষক অধ্যাপক ড. নৃপেন্দ্রলাল দাশ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কবীর ও লালনের গান, দর্শন ও মানবতাবাদী ভাবধারার চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের সৃষ্টিকে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।









