চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজকে ঘিরে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নৈশভোজে আমন্ত্রণ পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে চীন সফরে যাওয়া কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবারও ২৪ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজে আমন্ত্রণ পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন। ওই সফরে ছিলেন টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং, ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোয়ার্জম্যান ও ফেসবুকের দিনা পাওয়েল।
এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং নৈশভোজে থাকবেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা ক্রিস লেহানে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, এআইয়ের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। অন্যদিকে চীন উন্নত মার্কিন প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও চীনের প্রযুক্তি সক্ষমতা নিয়ে নিরাপত্তাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি অনানুষ্ঠানিক কূটনীতির সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নৈশভোজে আসনসংখ্যা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে প্রায় ১৫০ জনের বেশি বসানো সম্ভব নয়। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতিথিদের পাশাপাশি চীনা প্রতিনিধিদলের জন্যও আসন রাখতে হবে।
এনপিআরের প্রতিবেদনের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, চীন নৈশভোজের টেবিলের অর্ধেক আসন চেয়েছে। তবে এ নিয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কতজন অতিথি থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। ফলে চূড়ান্ত অতিথি তালিকাও নির্ধারিত হয়নি।
গত এপ্রিলে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মানে ট্রাম্পের আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেও ব্যাপক চাহিদা ছিল। সে সময় আমন্ত্রিত অনেক ধনকুবের তাদের জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে আনতে চেয়েছিলেন। জায়গার সংকটের কারণে কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে হোয়াইট হাউসের নিচতলার ম্যাপ রুমে বসতে হয়েছিল।
শি জিনপিংয়ের সফরকে সামনে রেখে হোয়াইট হাউসের প্রস্তুতিও চলছে। দক্ষিণ লনে নতুন স্থায়ী গ্রানাইট হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের উত্তর দিকের বারান্দার স্তম্ভগুলো সংস্কার ও রং করা হয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটিই হবে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ। এর আগে তিনি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার সম্মানে নৈশভোজ আয়োজন করেছিলেন।
তবে নৈশভোজের আসন বণ্টন ছাড়াও ট্রাম্প ও শির আলোচনায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্ক বিরোধ, চীনের ইরান থেকে তেল কেনা, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক, তাইওয়ানসহ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ভূমিকা এবং তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য মার্কিন অস্ত্র বিক্রি এসব বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
শির সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ট্রাম্পের ব্যস্ত সপ্তাহের শুরুতেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।









