পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর মাধ্যমে নারীর সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেন কর্মক্ষেত্রে সফল নারীরা। চ্যানেল আই কার্যালয়ের ছাদ বারান্দায় গত মঙ্গলবার বিকালে এক গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করে আনন্দ আলো। প্রধান সহযোগী ছিল ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’। আলোচনার বিষয় ‘সমমর্যাদার সাথে পরিবর্তনের পথে’।
আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুপা চক্রবর্তী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বনশ্রী মিত্র নিয়োগি, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক মাহবুবা চৌধুরী, সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, কণ্ঠশিল্পী কোনাল, অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী, সাংবাদিক সোমা ইসলাম, জাতীয় প্রমীলা ক্রিকেট দলের সদস্য মিশু, রেডিও ভূমির প্রধান সামস সুমন, ব্যাংক এশিয়ার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়রা আজম প্রমুখ।
আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ‘নারী জন্মগতভাবে সমান মর্যাদার অধিকারী। দৃষ্টিভঙ্গি, মনোজগৎ, ধ্যান–ধারণার পরিবর্তনই পারে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে।’
রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘এগিয়ে যাওয়া নারীরাই হতে পারে ঘরের কোনে থাকা নারীদের অনুপ্রেরণা। আমরা যদি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা বেশি বেশি জানাতে পারি, তাহলে তারা অনুপ্রেরণা পাবে নতুন নতুন কাজের।’
বর্তমান সরকার নারীবান্ধব মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ নারীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। পুরুষ যদি মনে করে আমার স্ত্রী, মা, সন্তানকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমার, তাহলেই নারী এগিয়ে যাবে।’

হুমায়রা আজম বলেন, ‘ভালো মা পেলে জাতি সাংঘাতিকভাবে উপকৃত হয়। আমার ব্যাংকের ৩৭ ভাগ কর্মী নারী। তাদের পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী এগিয়ে।’
সোমা ইসলাম বলেন, ‘আমরা কাজ করি মানুষ হিসেবে। কাজের ক্ষেত্রে পুরুষরা সাহায্য করলে ভালো হয়, না করলেও সমস্যা নেই। নারী তার কর্মগুণেই এগিয়ে যাবে।’
রুপা চক্রবর্তী বলেন, ‘মেধায়, পড়াশুনা আর রেজাল্টে দেখা যায়, ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার অভাবে নারীরা পিছিয়ে থাকে।’









