এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পাবনার সাঁথিয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে বাহিনীটি। এসআরবির দাবি, বাঘা একটি নিষিদ্ধ ‘সর্বহারা গ্রুপের’ নেতা।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
এসআরবি জানায়, নিহত আব্দুল আজিজ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামারি গ্রামের স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী। ব্যবসার কারণে তার কাছে সবসময় নগদ টাকা-পয়সা থাকে এমন তথ্য জানার পর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর আজিজ নিখোঁজ হন। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
এসআরবির ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা আজিজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ পুকুরে ফেলে রেখে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে চারজন সন্দেহভাজনের সন্ধান পায়। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এসআরবি কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চারজন মিলে আব্দুল আজিজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মাত্র ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার লোভে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। ব্যবসায়ী আজিজের কাছে টাকা থাকার বিষয়টি জানার পর তাকে টার্গেট করা হয়।
এসআরবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘা ঘটনার পর একাধিকবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদীতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১২-এর যৌথ দল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাঘা নিজেকে একটি নিষিদ্ধ ‘সর্বহারা গ্রুপের’ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ হাজার টাকার লোভে চারজন মিলে আব্দুল আজিজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্য ও তার কথিত সংগঠন-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তে আরও যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাবনার সাঁথিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।









