এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশাও জোরদার হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩২৮ দশমিক ১০ ডলারে নেমেছে।
দুই দিনের বৈঠক শেষে বুধবার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানাবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর্থিক বাজারগুলোতে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেডের নীতি নির্ধারকেরা বেঞ্চমার্ক সুদের হার এক-চতুর্থাংশ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসবেন।
আইজি-র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, স্বর্ণের বাজারে শুধু সুদের হার বাড়ানোই নয়, ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কীভাবে এই সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফেড চেয়ারম্যান যদি এটিকে প্রতিটি বৈঠকের পর ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর একটি চক্রের শুরু হিসেবে দেখান, তাহলে স্বর্ণসহ সামগ্রিক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের জন্য এটি বড় ধরনের ধাক্কা হবে।
তবে তিনি যদি ধীরে ধীরে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে নিজের অবস্থানের ইঙ্গিত দেন, তাহলে তা ঝুঁকিপ্রবণ বিনিয়োগ এবং স্বর্ণের জন্য কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
মুদ্রাস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ সাধারণত কমে যায়। কারণ এতে কোনো আয় না দেয়া এই মূল্যবান ধাতু ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়।
গত শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধির গতি বেড়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের তীরে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে তারা।
সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অব্যাহত থাকায় তেলের দামও বেড়েছে। জ্বালানির উচ্চ দাম পুরো অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বন্ডের দরপতনের কারণে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিন অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৬১ দশমিক ১২ ডলারে উঠেছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮২ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে।









