বাব আল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়া এবং সংঘর্ষ তীব্র হয়ে ওঠায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার জিবুতির অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাওয়ালেহ বলেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ১ হাজার ৪০০ শরণার্থী জিবুতিতে পৌঁছেছেন।
এর আগে শুক্রবার তিনি জানিয়েছিলেন, সমুদ্রপথে পারাপারের সময় নৌকার জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০০ জনকে উদ্ধার করে উপকূলীয় শহর ওবোকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইয়েমেন উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের ওবোকে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনিদের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। একই প্রণালী দিয়ে হর্ন অব আফ্রিকা থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার পথে অভিবাসীরাও ট্রানজিট হিসেবে যাতায়াত করেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মানবিক সহায়তা সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম এএফপিকে বলেন, নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ ওবোকে উপকূলে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষ সেখানে আসতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার আইওএম জানায়, গত সপ্তাহে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর ইয়েমেনে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এক বিবৃতিতে বলেন, সংঘাতের কারণে অনেক পরিবার দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তাদের হাতে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জিবুতি কয়েক হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মার্চ ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ৩৬ হাজারের বেশি। তাঁদের অধিকাংশই সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেন থেকে এসেছেন।
গত বৃহস্পতিবার হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেওয়ার পর বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের উপকূল ও দ্বীপগুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রণ









