এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর (নবম পে স্কেল) আওতায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
তবে সবার পেনশন একই হারে বাড়বে না। অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, যাদের বর্তমান পেনশন কম, তাদের বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি হবে। আর যাদের পেনশনের পরিমাণ বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার কম রাখা হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আলোচিত এক পদ এক পেনশন বা এক গ্রেড এক পেনশন (ওআরওপি) ব্যবস্থা এখনই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই নীতির লক্ষ্য হলো ভিন্ন সময়ে একই পদ বা স্কেল থেকে অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের পেনশনে থাকা বৈষম্য কমানো। বর্তমানে অনেক আগে অবসরে যাওয়া কর্মীরা একই পদে সাম্প্রতিক সময়ে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় কম পেনশন পান।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম, তাদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। যাদের মাসিক পেনশন ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের বাড়বে ৭৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যারা পেনশন পান, তাদের বাড়বে ৬৫ শতাংশ; ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের বাড়বে ৬০ শতাংশ এবং যাদের পেনশন ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি, তাদের পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ হারে।
ওআরওপি পুরোপুরি চালু হলে একই পদ ও স্কেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের মধ্যে থাকা এই ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একসঙ্গে ওআরওপি বাস্তবায়ন না করার কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় অর্থ ও তথ্যের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।
তিনি জানান, সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতে একসঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করা হলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্যও পর্যাপ্ত নেই।
এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।









