এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় একটি বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়ার (৫২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার দুই দিন পার হলেও জড়িত সন্দেহে গতকাল রোববার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
তবে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়ার বাসায় রাতে এক অচেনা যুবক এসেছিলেন। সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে বাসায় ঢুকতে ও বের হয়ে যেতে দেখা গেছে। ওই যুবক চলে যাওয়ার পর বাসা থেকে মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একইসঙ্গে তার গলার সোনার চেইন, গরু বিক্রির চার লাখ টাকা ও দুটি মুঠোফোন পাওয়া যাচ্ছে না।
অচেনা ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার সকালে নগরের আমবাগান রেলওয়ে কলোনি-সংলগ্ন হিজড়া কলোনিতে মৌসুমীর বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বাসার একটি কক্ষে খাটের ওপর তার লাশ পড়ে ছিল। গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া শরীরে অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খুলশী থানায় মামলা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাতে মৌসুমীর বাসায় এক যুবক এসেছিলেন। মৌসুমী নিজেই তাকে দরজা খুলে দিয়েছিলেন। ওই যুবককে পরে বাসা থেকে বের হয়ে যেতেও দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মৌসুমীর পূর্বপরিচিত হতে পারেন। তবে হিজড়া সম্প্রদায়ের কেউ ওই যুবককে চিনতে পারছেন না। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ওসি আবদুর রহিম বলেন, মৌসুমীর বাসার পেছনে গরুর একটি খামার রয়েছে। গরু বিক্রির চার লাখ টাকা তার কাছে ছিল। ঘটনার পর থেকে তার গলার সোনার চেইন, টাকা ও দুটি মুঠোফোন পাওয়া যাচ্ছে না। গরু বিক্রির টাকা বাসায় থাকার খবর পেয়ে কোনো পূর্বপরিচিত ব্যক্তি এসেছিলেন কি না, অথবা ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
মৌসুমীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ওসি বলেন, তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। চেইন নেওয়ার সময় টানাটানিতে গলায় আঘাত লেগেছে, নাকি তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অচেনা ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চলছে।









