বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক সোনালী অধ্যায় যোগ করেছেন জাতীয় দলের মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। সাউথ আফ্রিকার মাটিতে সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির অসাধারণ কীর্তি গড়লেন ২৫ বর্ষী তারকা। ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন লড়াইয়ে উইকেটে থিতু হয়ে অবিশ্বাস্য এক ইনিংসে দলের হাল ধরেন। পরাজয় এড়িয়ে ম্যাচটি ড্র হয়েছে।
হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন ৪৫০ বলে। শেষপর্যন্ত এ ব্যাটার ৩৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার এ সেঞ্চুরির পথে মোট ২৭টি চার এবং ১০টি ছক্কার মার মেরেছেন। সাউথ আফ্রিকায় কোনো বিদেশি ব্যাটারের দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরি এটি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশ ব্যাটারের তৃতীয় ট্রিপল, বাংলাদেশ এ দলের হয়ে প্রথম কারো এ কীর্তি।
দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন হৃদয়। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সত্যি বলতে, এই ইনিংস আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। অসংখ্য শুভকামনা পেয়েছি এখন ও পাচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’
‘ম্যান অব দ্য ম্যাচের ট্রফি নিয়ে বারবার মনে হচ্ছিলো কোনো একদিন এমন একটি ইনিংস জাতীয় দলের হয়ে খেলবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ এবং আমার মায়ের দোয়া থাকলে সব সম্ভব।’
হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরিতে অভিনন্দন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিম লিখেছেন, ‘যে কোনো জায়গায়, যে কোনো পর্যায়ের, যে কোনো প্রেক্ষাপটে ৩৫০ রানের ইনিংস খেলতে পারা দারুণ ব্যাপার। সেই ইনিংস যদি হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়, তাহলে সেটিকে বলতে হয় অসাধারণ।’
‘বলা হয়, রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্যই। আমি খুবই খুশি যে, আমার রেকর্ডটি ভেঙে গেছে। ইতিহাস গড়ার জন্য অভিনন্দন তাওহিদ হৃদয়। দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩৫০ স্পর্শ করতে পারা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দেশের ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ারও একটি প্রতীক।’
এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল আরও দুটি। একটি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ওপেনার ও বর্তমান বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবালের। তিনি বিসিএলে মধ্যাঞ্চলের হয়ে ২০২০ সালে ৩৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। তামিম ছাড়াও ঘরোয়াতে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে অপরাজিত ছিলেন সাবেক ব্যাটার রাকিবুল হাসান। এনসিএলে ২০০৭ সালে বরিশালের হয়ে সিলেটের বিপক্ষে ৩১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চার দিনের টেস্ট ম্যাচে সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দল প্রথমে ব্যাট করে ১১৫.১ ওভার খেলে ৫১২ রান করে অলআউট হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ১৯১.২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৬৭৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৬৪ রানের লিড দিয়েছিল। পরে ম্যাচটি ড্র হয়েছে।









