হিমবাহ ও পাহাড় ধস আর বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য ধনী দেশগুলোকে দায়ী করেছে নেপাল। এসব দেশে উন্নয়নের জন্য গড়ে তোলা শিল্পকারখানা থেকে ক্রমবর্ধমান গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। তারই শিকার হয়েছে নেপাল। এ ঘটনায় ক্ষতি পূরণের জন্য দেশটি জাতিসংঘের কাছে ৫০০ কোটি ডলার দাবি করেছে।
সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে নেপালে। এরই মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছে তারা। প্রাথমিক হিসাবে, বিধ্বস্ত নেপালের দরকার কমপক্ষে ৫০০ কোটি ডলার। এ অবস্থায় জাতিসংঘের কাছ থেকে সাহায্য চাইছে নেপাল।
নেপাল বলছে, জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলানোর জন্য জাতিসংঘের যে বিশেষ তহবিল আছে, সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সাহায্য দেয়া হোক। হড়পা বানের পর নেপালে এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। বিভিন্ন মিডিয়ায় বলা হচ্ছে, নিখোঁজের সংখ্যা চার হাজারের বেশি হতে পারে। যত সময় এগোচ্ছে, তাদের জীবিত উদ্ধারের আশা তত কমছে।
নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯৩৯ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে। তবে ৩ হাজার ৯২৫ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
নয়াদিল্লি জানিয়েছে, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল এই পুরো বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছেন ‘ধনী’ দেশগুলোকে। তার মতে, গত সপ্তাহে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে যে হড়পা বান নামে, তার অন্যতম কারণ ‘মানবসৃষ্ট’ জলবায়ু পরিবর্তন।
মহেশ্বর ধাকাল বলেন, ধনী দেশগুলো বেশ কয়েক দশক ধরে যে গ্রিনহাউস গ্যাস (যে সব গ্যাস সূর্যের তাপ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে) নির্গমন করেছে, তার ফল ভুগতে হচ্ছে নেপালের মতো ‘দুর্বল’ দেশগুলোকে। তার মতে, যারা (গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে) সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে।
মহেশ্বর যে তত্ত্ব তুলে ধরছেন, তা নতুন নয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে বহু বছর ধরেই এই ধরনের যুক্তি উঠে এসেছে। তা নিয়ে বহু আলোচনাও হয়েছে। শেষে ২০২৩ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল চালুর বিষয়ে সব পক্ষ সম্মত হয়। কিন্তু আমেরিকাসহ বেশ কিছু ধনী রাষ্ট্র অনুদান দেয়ার ক্ষেত্রে গা ছাড়া মনোভাব দেখায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের এই উদ্যোগ খুব একটা কার্যকর হয়ে ওঠেনি।
নেপালে যে ধরনের বিপর্যয় হয়েছে, এমন বড়সড় ধাক্কা মোকাবিলার মতো ক্ষমতা এখনও নেই জাতিসংঘ তহবিলের। এটি গঠনের জন্য এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৮২ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। অথচ তহবিল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৯টি দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে তারা। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল সংক্রান্ত বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তহবিল থেকে নেপালকে ২ কোটি ডলার দেয়া যেতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, এটি নেপালকে সাহায্যের জন্য ‘কিছুই নয়’।









