আর্জেন্টিনা জার্সিতে লিওনেল মেসির দীর্ঘ পথচলার অবসান ঘিরে আবেগে ভাসছেন সতীর্থ-সমর্থকরা। তবে বিশেষ মুহূর্তটিকে ভিন্নভাবে গ্রহণ করেছেন মহাতারকার স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। অশ্রু আর স্মৃতিকাতরতায় ডুবে না গিয়ে মেসির সাফল্য, সংগ্রাম ও পরিবারের প্রতি ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদায়ের বার্তা দিয়েছেন মেসি। এরপর সতীর্থ, পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনেরা তাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন। মেসির মা সেলিয়া ছেলের প্রতি আবেগ প্রকাশ করেছেন। স্ত্রী আন্তোনেল্লা লিখেছেন দীর্ঘ বার্তা। বার্তায় শুধুই কান্না কিংবা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করেননি, মেসির সংগ্রাম থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং অর্জনকে সামনে এনে উদযাপন করেছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আন্তোনেল্লা লিখেছেন, ‘এমন একটি অধ্যায় তোমার এভাবে শেষ করতে দেখা কতটা গর্বের! কতগুলো বছর, কত স্মৃতি, কত কত আনন্দ, আবার একইসাথে কত প্রতিবন্ধকতা।’
মেসির কঠিন সময়গুলোর প্রত্যক্ষদর্শী আন্তোনেল্লা। ব্যর্থতা, হতাশা কিংবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পরও কীভাবে মেসি সামলে নিয়ে আবার লড়াইয়ে ফিরেছেন, কাছে থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, ভেঙে পড়তে দেখেছি, আবার ঘুরে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন কোনকিছু মনের মতো হচ্ছিল না, তোমাকে ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে দেখেছি এবং বারবার চেষ্টা করতে দেখেছি। এতগুলো বছর পর, তোমার স্বপ্নপূরণ হতে এবং আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা দিনগুলো উপভোগ করতে দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে।’
মেসির ক্যারিয়ারে উত্থান-পতনের প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গে পরিবার জড়িয়ে ছিল। সম্প্রতি মেসির বাবা হোর্হের মৃত্যুশোক বয়ে বেড়াচ্ছে পরিবারটি। এরমধ্যেই মেসির ফুটবলীয় সাফল্যের পাশাপাশি পিতৃত্বের দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন আন্তোনেল্লা।
লিখেছেন, ‘তবে এই পুরো গল্পের ভেতরে একটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে আলোড়িত করে। আমাদের সন্তানেরা এই সবকিছু নিজেদের চোখে দেখে বড় হয়েছে। তারা দেখেছে তাদের বাবা নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য কীভাবে লড়াই করেছে, কখনও হাল ছাড়েনি এবং শেষমুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রেখেছে। আর তারপর তারা সেখানে উপস্থিত থেকে নিজের চোখে দেখেছে যে, কীভাবে তাদের বাবা সব অর্জন সম্পন্ন করল এবং বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরল।’
মেসি ও আন্তোনেল্লার তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো। থিয়াগোর বয়স ১৩, চিরোর ১০ এবং মাতেও ৮ বছরের। বাবার অর্জনের ঐতিহাসিক ব্যাপ্তি হয়তো এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি তারা। তবে বাবাকে নিয়ে তাদের গর্বের কোন কমতি নেই। আন্তোনেল্লা লিখেছেন, ‘হয়তো কোন একদিন তারা সত্যি সত্যি বুঝতে পারবে তোমার এই রূপকথার মহত্ব। তবে আজ তারা তাদের বাবাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত।’
ভালোবাসার বার্তা দিয়ে আন্তোনেল্লা শেষে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার এই পথচলা, তোমার পেরিয়ে আসা বাধাগুলো এবং সর্বোপরি এই সবকিছুর পেছনে থাকা মানুষটাকে নিয়ে। তোমার পাশে থেকে এই অবিশ্বাস্য যাত্রার অংশ হতে পারাটা কত বড় সৌভাগের! তোমাকে আমরা অসীম ভালোবাসি।’









