(হাসান বাপ্পি)
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় আশি পেরোনো সংখ্যালঘু বৃদ্ধা সুশিলা রাণীর জমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে বসবাস তো দূরের কথা, নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পেরে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটছে তার। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সুশিলা রাণীর পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে বদলেছে অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক আশ্রয়ের পরিচয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়।
সুশিলা রাণীর পরিবারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলার দূরসম্পর্কের ভাস্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার তার সম্পত্তি নিয়ে নানা অন্যায় করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বৃদ্ধা।
পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তাদের দাবি, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কর্মকাণ্ডে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার মাস্টারের আশ্রয়-সহযোগিতা রয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বদলালেও জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, ‘আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। আমার মা আমাদের বোনদের অনেক কষ্টে বড় করেছেন। আমাদের কোনো অভিভাবক না থাকায় যখন যে ইচ্ছে করেছে আমাদের ভিটেমাটি নিয়ে অন্যায় করেছে। আমার মাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। অনেকবার বিচার-সালিশ হয়েছে, কিন্তু আমার মা কোনো প্রতিকার পাননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাকাতো ভাই বিকাশ বা তার মতো যারা আছে তারা অন্যায় করেছে। ভাবতে অবাক লাগে, এ ধরনের মানুষই সব রাজনৈতিক দলে আশ্রয় পায়।’
অভিযোগের বিষয়ে বিকাশ চন্দ্র সরকারের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার মাস্টার। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। তারা নিজেরাই জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আমাকে এতে জড়িয়েছে। তাদের বিচার-সালিশেও আমি কখনো যাইনি। যেহেতু এটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ, তাই আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।’
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘যেহেতু আমাদের উপজেলা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাই মৌখিক কোনো বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে। দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, সে যত বড় পদেই থাকুক। সত্যতা যাচাইয়ের পর উপজেলা সভাপতির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সুশিলা রাণীর পরিবার নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি নিজের জরাজীর্ণ ঘরের বারান্দায় বসে স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।
জীবনের শেষ সময়ে নিজের ভিটায় শান্তিতে বসবাস ও সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান সুশিলা রাণী। এ জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।









