দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স ও স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চলে একযোগে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দেশেই আগুন নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা।
বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্রান্সে সেনাবাহিনী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে, আর স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি সামরিক জরুরি ইউনিটকে মাঠে নামানো হয়েছে।
ফ্রান্স: বোর্দোর কাছে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে মোট দুই লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে গেছেন। এ পর্যন্ত ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপের পুরো এলাকা খালি করে দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এত বড় মাত্রার দাবানল আগে কখনও দেখিনি।’ প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও সংকটপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
স্পেন: মাদ্রিদের কাছে তিনটি পৃথক দাবানল একত্রিত হয়ে একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন বলে জানিয়েছেন জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিয়ো। মাদ্রিদ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট একে ‘অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে এলাকা ছেড়ে যেতে বা ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ হাজারকে সরাসরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাদ্রিদে ৬ হাজার ও আভিলায় ৯ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ আভিলার আরেকটি দাবানলের সাথে মাদ্রিদের আগুন একীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছে।
বুরগোহন্দো এলাকায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অবহেলায় আগুন লাগার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন।
ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই দেশেই বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।









