জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ইরানবিরোধী প্রস্তাবে বিপক্ষে ভোট দিয়েছে নয়াদিল্লি। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আনা এই প্রস্তাবে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। ভারতসহ মোট ৭টি দেশ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে মোট ৪৭টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের সদস্যপদ না থাকায় এই ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
ভোটের সমীকরণ ছিল নিম্নরূপ:
প্রস্তাবের বিপক্ষে (না- ৭টি দেশ): ভারত, চীন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, কিউবা ও ভিয়েতনাম।
প্রস্তাবের পক্ষে (হ্যাঁ – ২৫টি দেশ): মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স সহ পশ্চিমা জোট এবং তাদের মিত্ররা।
ভোটদানে বিরত ( ১৪টি দেশ): কাতার সহ উন্নয়নশীল বিশ্বের বেশ কিছু দেশ। নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে:
১. রাজনৈতিক হাতিয়ারের বিরোধিতা: ভারত বরাবরই মানবাধিকার ইস্যুকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরোধী। ভারতের মতে, মানবাধিকার রক্ষার নামে সিলেক্টিভ বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের মাধ্যমে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রকে কোণঠাসা করা উচিত নয়।
২. গঠনমূলক আলোচনা: ভারত মনে করে, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা একতরফা নিন্দার চেয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং গঠনমূলক পন্থাই সমস্যা সমাধানের সর্বোৎকৃষ্ট পথ।
৩. কৌশলগত স্বার্থ (চাবাহার ও মধ্য এশিয়া): ইরানের চাবাহার পোর্ট ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যের রুট হিসেবে ইরান ভারতের অপরিহার্য মিত্র। পশ্চিমা দেশগুলোর চাপে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায় না ভারত।
‘বন্ধুত্বের অনন্য নজির’ভারতের এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছে তেহরান। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালি এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় ভারতের প্রশংসা করে লিখেছেন:
“জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতের এই নীতিগত ও দৃঢ় সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। একটি অন্যায্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভারতের এই ভোট প্রমাণ করে যে, তারা ন্যায়বিচার, বহুপাক্ষিকতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ইরানে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দানা বাঁধে। পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এই বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর বলপ্রয়োগ করেছে, যাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্রিটেন, জার্মানি ও আইসল্যান্ডের নেতৃত্বে UNHRC-তে একটি জরুরি অধিবেশন ডাকা হয় এবং তদন্ত কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হয়।
একদিকে ভারত আমেরিকার সঙ্গে ‘ইনিশিয়েটিভ অন ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজি’সহ প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সম্পর্ক গভীর করছে।
অন্যদিকে, গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় ইরান বা রাশিয়ার মতো পুরনো মিত্রদের হাত ছাড়ছে না।









