৫ আগস্টের পর থেকে দেশজুড়ে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে যুদ্ধ করে আসলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন টার্গেট করা হচ্ছে- এমন প্রশ্ন করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিন রেজা শিশির। একইসাথে পুরান ঢাকার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে শাহিন রেজা শিশির বলেন, পুরান ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা যুবদলের কেউ না। এরপরও যুবদলের পদপ্রত্যাশী হওয়ায় তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, যাতে কখনও যুবদলের পদপ্রত্যাশী হতে না পারে। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে খুনে জড়িতদের গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ছাত্রদল এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে। একাধিক কর্মসূচি দিয়েছে। এতকিছুর পরও তারেক রহমানের নামে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান আমরা লক্ষ্য করেছি।
ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, এসব্ স্লোগান কারা দেয় আমরা জানি। কেন দেয় সেই উদ্দেশ্যও পরিষ্কার। এমনকি নতুন একটি দলের কেন্দ্রীয় নেতাও সরাসরি তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে তাকে এসব হত্যাকাণ্ডের দায় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটি খুবই দুঃখজনক। এমন রাজনীতি থেকে নতুন দলকে বিরত থাকতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৫ আগস্টের পর নানা অদৃশ্য শক্তির সাথে যুদ্ধ করার কথা নেতাকর্মীদের বলেছেন। সেসব এখন আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান আমাদেরকে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেজন্য আমরা চুপ আছি। এটাকে দূর্বলতা ভাবলে প্রতিপক্ষ ভুল করবে। যে বা যারা অপরাধী তাদের বেলায় আমরাও জিরো টলারেন্স। অপরাধীর শাস্তি আমরাও চাই। তবে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোংরা রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠলে এর পরিণতি ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
শিশির বলেন, তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করায় একটি গোষ্ঠী তার ইমেজ নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তাকে সরিয়ে দিতে পারলেই মাইনাস টু ফর্মূলা বাস্তবায়ন করা যায়। তবে এদেশের জনগণ কখনোই খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে মাইনাস করতে দেয়নি। কখনো দিবেও না। সুতরাং পুরান ঢাকার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহ করতেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড থেকে প্রতিপক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, পুরান ঢাকায় নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ও পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দোকানের নাম ছিল ‘সোহানা মেটাল’। বিদ্যুতের তামার ও সাদা তারের ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন তিনি। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিলেন মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু। তারা নিয়মিত চাঁদা দাবি করছিলেন এবং ব্যবসার ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলেন। এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সোহাগ এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মহিন ও টিটুসহ অধিকাংশ আসামি ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তাদের সংগঠনে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।









