কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ এলাকার চিংড়িঘেরে দখল করে মাছ চুরির দুটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্হায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। চলমান দু’টি ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আখতার জাবেদ এর আদালত এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন বলে জানান মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আনোয়ার।
মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ পেয়ে গণমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করছেন বিএনপির এই নেতা। সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়েছে তাই দুটি মিথ্যা মামলা থেকে আমাদের খালাস দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা থেকে আদালত আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আজকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতীতে যত অন্যায়, ভিত্তিহীন , মিথ্যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত যত গায়েবি মামলা বাংলাদেশে হয়েছে রাজনৈতিক নেতাকর্মী সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের বিরুদ্ধে। সকল মিথ্যা হয়রানি মুলক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত গায়েবী সমস্ত মামলা প্রত্যাহার হোক এবং আদালত থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত হোক এবং খালাস হোক। এ ৩ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ।
এর আগে দুপুর ২ টার দিকে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত হন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপরই তার আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত হন।
এসময় সালাহউদ্দিন আহমদের নিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতকে তাদের মক্কেলকে স্বশরীরে হাজিরা দেয়া থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানান।
পাশাপাশি তাদের মক্কেলকে দেশের একজন সম্মানিত নাগরিক উল্লেখ করে তৌহিদুল বলেন, ঘটনা ২০০১ সালে সংঘটিত হলেও চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয় ২০০৭ সালে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই সালাহউদ্দিন আহমদের নামে মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছিল। এ কারণে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত দুইটি মামলা বিচারিক কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
আদালত থেকে বের হয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বাইরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত দীর্ঘ শুনানীতে আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আজ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান চকরিয়া উপজেলার চরনদ্বীপে দু’টি চিংড়ি ঘেরে ২০০১ সালে হামলা চালিয়ে দখল এবং মাছ চুরির ঘটনা উল্লেখ করে ২০০৭ সালে চকরিয়া থানায় দু’টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন জনৈক মাহামুদুল হক। মামলায় আসামি করা হয় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ ৫০ জনেরও বেশী দলীয় নেতাকর্মী। ২০১৮ সালে পুলিশ আদালতে মামলা দুটির চার্জশিট প্রদান করেন।
আইনজীবীরা জানান আজ আদালতে মামলা দুটি স্থগিতের আবেদন করে শুনানি করেন। এসময় আদালত জানিয়েছে বাদীপক্ষ এই দু’টি মামলায় একজন স্বাক্ষীকেও আদালতে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে তাই মামলা দুটি স্থগিতের আবেদন মঞ্জুর করে সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ সকল আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন।









