জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনার ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মঙ্গলবার ৬ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে এ ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার ৩ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কতিপয় ছাত্র কর্তৃক নিকৃষ্টতম অপরাধ ধর্ষণের ঘটনা ঘঠিয়েছে। স্বামীকে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে স্ত্রীকে বোটানিকেল গার্ডেনের পাশে জঙ্গলে নিয়ে পালাক্রমে একাধিক নরপশু ধর্ষণ করে। আমরা এ ঘটনায় হতবাক ও ক্ষুব্ধ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতঃপূর্বে আরও ঘটনা ঘটেছে। কোন ধর্ষণের কোনরূপ তদন্ত বা সুরাহা কতৃপক্ষ করেনি।বিশাল এই বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাস নিরাপদ ও শৃঙ্খলা আনার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেয়নি। এই সুযোগে উচ্ছৃঙ্খল কতিপয় ছাত্র এই ধরণের অমানবিক ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে।
এই ধর্ষক ছাত্রদের যে কথিত রাজনৈতিক পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তা আমাদের শঙ্কিত করে তুলেছে। আজকের যে ছাত্র সে আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হবে। সেই ছাত্রদের যদি এই নৈতিক অধপতন হয় তবে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।
আমরা দ্ব্যার্থহীন কন্ঠে বলতে চাই যে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এ হীনকর্ম জনগনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আমরা সরকারের কাছে এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচার চাই। এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কঠিন পদক্ষেপ ও শক্ত অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা আশা করি বাংলাদেশের কোথাও আর কোন নারী ধর্ষিত হবে না।
বিবৃতিদাতারা হলেন —হাসান ইমাম, অনুপম সেন, সারওয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, আবেদ খান, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির, কেরামত মওলা, মিলনকান্তি দে, লাকী ইনাম, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ, গোলাম কুদ্দুছ, আহকামউল্লাহ।









