টসে জিতে ব্যাটিং নেয়ার পর সফরকারী অধিনায়ক শান মাসুদের তুষ্টি বেশিক্ষণ টেকেনি। শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয়ে ৪৭ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আঘা সালমানের ব্যাটে বিপর্যয় সামলালেও আবারো নামে ধস। নয়ে নামা পেসার আমের জামালের ব্যাটিং দৃঢ়তায় অলআউটের আগে অবশ্য তিনশ ছাড়িয়ে যেতে পারে অতিথি দল।
সিডনি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩১৩ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। এক ওভার ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া দিনশেষে তুলেছে বিনা উইকেটে ৬ রান। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা ডেভিড ওয়ার্নারের উইলো থেকে অজিদের রানগুলো এসেছে। গ্যালারিতে থাকা ৩৩ হাজার ৯০৫ জন দর্শক ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা দাঁড়িয়ে ওয়ার্নারকে অভিবাদন জানান। কোনো বল মোকাবেলা না করেই ড্রেসিংরুমে ফেরেন উসমান খাজা।
ম্যাচের দ্বিতীয় বলে উইকেট তুলে নেন মিচেল স্টার্ক। বোর্ডে রান যোগের আগে ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক দ্বিতীয় স্লিপে স্টিভেন স্মিথের তালুবন্দি হন। জশ হ্যাজেলউড দ্রুত উইকেটের দেখা পান। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুব উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন বাবর আজম। সাবেক অধিনায়ক ৪০ বলে ৪ চারে ২৬ রানে প্যাট কামিন্সের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসবন্দি হয়ে সৌদ শাকিল ৫ রানে কামিন্সের শিকার হন।
পঞ্চম উইকেটে রিজওয়ানকে নিয়ে ৪৯ রান যোগ করে খানিক বিপদ সামলান মাসুদ। পাকিস্তান অধিনায়ক ৭০ বলে ৩ চারে ৩৫ রানে ক্রিজ ছাড়লে জুটি ভাঙে। মিচেল মার্শের বলে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন।
রিজওয়ান ও সালমান ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে গড়েন প্রতিরোধ। ৯৬ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন। সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে থামেন রিজওয়ান। উইকেটরক্ষক ব্যাটার ১০৩ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৮৮ রানে কামিন্সের শিকার হন।
সংগ্রহ দুইশ পেরোনোর পর দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে মাঝারি স্কোরে অলআউটের ঝুঁকিতে পড়ে সফরকারী দল। ১৫ রান করা সাজিদ খানকে ফেরান কামিন্স। ফিফটি পাওয়া সালমান আউটের আগে খেলেন ৬৭ বলে ৮ চারে ৫৩ রানের ইনিংস। রানের খাতা না খোলা হাসান আলীকে সাজঘরে ফিরিয়ে টেস্টে টানা তৃতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পান কামিন্স।
২২৭ রানে ৯ উইকেট হারানো পাকিস্তান যখন ইনিংস শেষের অপেক্ষায়, তখন চমক দেখান আমের জামাল। মীর হামজাকে নিয়ে শেষ উইকেটে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময়ে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। অজি বোলারদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ৯৭ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৮২ রানের ইনিংস খেলেন জামাল। স্পিনার নাথান লায়নের বলে স্টার্কের ক্যাচ হয়ে তিনি ফিরলে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয়।
স্বাগতিকদের পক্ষে ৬১ রানে ৫ উইকেট পান অধিনায়ক কামিন্স। স্টার্ক ২টি ও একটি করে উইকেট নেন হ্যাজেলউড, লায়ন ও মার্শ।









