নেপাল-চীন সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর শত শত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। বুধবার পাহাড়ি নদীতে কাদা ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ার পর আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ৩৪০ জন বিদেশি পর্যটক।
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের নুয়াকোট, ধাদিং ও রাসুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানির সঙ্গে কাদা-পাথরের স্রোত আছড়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও পুরো গ্রামের বিস্তীর্ণ অংশ ধ্বংস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার স্রোতে মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন ভেসে যাচ্ছে।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩৪০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলটি ট্রেকার ও ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ও সড়কব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
চীনের তিব্বতেও একই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। দেশটির গিরং এলাকায় একটি সীমান্ত বন্দরেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সেখানে তিনজনের মৃত্যু এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ থাকার খবর জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধসে নদীতে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথর পড়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।









