‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ সংগঠনের উদ্যোগে ৪৭ বছর পর দেখা হলো ৪ বান্ধবীর। বুধবার রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় দেখা হয় তাদের।
বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ইতিহাসচর্চা কেন্দ্রিক সংগঠন ও সংগ্রহশালা ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’। স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তি অর্থায়নে দেশব্যাপী ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম, সংস্কৃতি চর্চা, প্রচার, সংরক্ষণ ও তথ্যবিকৃতিরোধে কাজ করছে সংগঠনটি। ইতিহাস, সংস্কৃতি বিষয় ছাড়াও সমাজের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করেন তারা।
সম্প্রতি ১টি ছবির মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৭ বছর খুঁজে না পাওয়া ৭ বান্ধবীকে খুঁজে বের করেছে তারা। জানা যায়, সংগঠনটির বিপুল সদস্য সংখ্যা থাকা অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। মোট ৭ জনের ৬ জনকেই পাওয়া গেছে তাদের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। আজ ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করেন তারা। তাদের মধ্যে দুজন অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। আরেকজন থাকেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। সেজন্য তিনিও সরাসরি দেখা করতে পারেননি।
‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক গিরিধর দে জানান, খুঁজে পাওয়ার সম্বল বলতে ছিলও একটি ছবি মাত্র। তা-ও ১৯৭৫ সালের। শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় (নারী শিক্ষা মন্দির) এর বিদায় সংবর্ধনাতে তোলা। এরপর পেরিয়ে গেছে ৪৭ বছর। কারও সঙ্গে কারও যোগাযোগ নেই। কেউ কারও খবরও জানেন না। তবে তারা ঠিকই একে-অপরের অন্তরে মিশে ছিলেন। কয়েকদিন পূর্বে অসুস্থ দিলখোশ বেগম পুতুল (৭ বান্ধবীর ১ জন) মেয়ে প্রত্যাশার কাছে স্মৃতি হয়ে থাকা ৭ বান্ধবীর স্কুলজীবনের ছবিটি দেখিয়ে স্কুল জীবনেরপর হারিয়ে ফেলা বান্ধবীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করছিলেন এবং বলছিলেন যদি কোনভাবে তাদের ফিরে পেতাম! এরপর মেয়ে তার মাকে জানালেন ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’-এর কথা। তারা এলেন, প্রচার শুরু হলো।
তিনি বলেন, অবশেষে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’-এর মাধ্যমে রাত পেড়িয়ে সকাল হতে-হতেই আমরা ৪ জনকে খুঁজে পেলাম। সর্বপ্রথম যাকে পাওয়া গেল তিনি ঝুমা আবদুল্লাহ। জানা গেল তিনি সেদিনই হজ করে দেশে ফিরেছেন। এরপর একে-একে সাবেরা বেগম, হাওয়া, রোওশন আরা নিলুকেও পেলাম। গতকাল সর্বশেষ রুবিকেও পেলাম। তাদের একে অন্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়েছে।









