অত্যাধুনিক শহর গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন সৌদি আরবের সংস্কারপন্থী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। শহর নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৫শ’ বিলিয়ন ডলার। লোহিত সাগর উপকূলে নির্মিত হবে ভবিষ্যতের এ শহর, যার আয়তন হবে ১০ হাজার ২৩০ বর্গমাইল।
শহর নির্মাণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উন্মুক্ত থাকবে। নব নব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দ্বারও উন্মুক্ত থাকবে সেখানে। শহরে অধিবাসীদের জন্য এমন জীবনব্যবস্থা থাকবে যা আজকের সৌদি আরবে নেই।
যুবরাজের স্বপ্নের এই শহরের বিজ্ঞাপনে স্পোর্টস ব্রা পরা নারীদেরও দৌড়াতে দেখা যায়। সেখানে নারীরা পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। এই নারীদের অনেকের মাথায় নেই হিজাব। রক্ষণশীল প্রাচীনপন্থী মানুষের স্থান হবে না ওই শহরে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ করবে চালকবিহীন গাড়ি, ড্রোন এবং রোবট। শহরে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিতভাবে লাভবান হবেন বলে যুবরাজ সালমান আশ্বাস দিয়েছেন।
এভাবেই নতুন যুগের শহর নির্মাণের ব্যবসায় প্রবেশ করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। যুবরাজের স্বপ্ন বাস্তব হলে, আমূল পরিবর্তন আসবে সৌদি নারীদের জীবনে। এক মাস আগেও সেখানে নারীদের গাড়ী চালানোর অনুমতি ছিলে না। এমনকি এখনো সৌদি নারীদের লেখাপড়া, বেড়ানো, বিয়ের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে পরিবারের কর্তার মর্জির উপর।
কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে বাস করে গুহাবাসীর মতো জীবনযাপন পদ্ধতি টিকিয়ে রাখতে চান না সংস্কারবাদী যুবরাজ। সম্প্রতি সৌদি আরবকে সব দেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
সৌদি আরবের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার সমালোচনা করে যুবরাজ বিন সালমান ঘোষণা দেন, সৌদি আরব ‘মধ্যপন্থি’ ইসলামে ফিরে যাচ্ছে এবং উগ্রপন্থা ‘নিশ্চিহ্ন’ করার পরিকল্পনা করছে।
সৌদি আরব বহু বছর ধরে তার কট্টরপন্থি ইসলামি শাসন ও জীবনব্যবস্থার জন্য পরিচিত। সেই দেশের রাজধানীতে সেখানকারই দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য ছিল অতি রক্ষণশীল ধার্মিকদের উদ্দেশ্য করে, যাদেরকে ক্ষমতাসীন সৌদি রাজপরিবার সহ্য করছে শুধুই তাদের সমর্থনের বিনিময়ে।
যুবরাজ মনে করেন, সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা থেকে চলে আসা কর্মপদ্ধতি এখন আর কাজ চালানোর মতো নয়।









