মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, গত সোমবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মাঝে।
সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মনোয়ার মোনা। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন:
‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্য ইচ্ছাকৃত বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা – শুধু এটুকু বললে ঐ মহিলার অপরাধ ও ধৃষ্টতা লঘু করে দেখা হয়। এ মতামত তার নিজের নাকি তার নেতৃত্বাধীন দলের, অর্থহীন এ প্রশ্ন উত্থাপনও! তবে রাজনীতির খেলা তো সহজ খেলা নয়, একটু জটিল। বুঝা যায় শহীদের সংখ্যা নিয়ে ওদের এ পুরনো ও বাসি কথা খালেদার মুখ দিয়ে নতুন করে বলানো হয়েছে এবং এটা পরিকল্পিতভাবে রাজনীতির বাজারে ছেড়েছে বিএনপি!
কেন হঠাৎ? কোনো ষড়যন্ত্র? এ পুরনো কৌশলটি এখনো নেয়া হয়। গোপন নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে বাইরে তুচ্ছ বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়ে জনগণের দৃষ্টিকে আড়াল করা। বাইরে ফালতু বিতর্ক উসকে দিয়ে তলে তলে ঘোঁট পাকানো আরকি! আশংকা জাগে কারণ দলটি আবার আন্দোলন সংগ্রামের চেয়ে ষড়যন্ত্রে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে! কিন্তু সেটাই বা কী করে হবে? আমরা তো দেখছি সাংগঠনিক অচলাবস্থা ঘোচাতে আওয়ামী লীগের জমানায় বিপর্যস্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফেলেছে। এ সময় গোপন চক্রান্ত অনুকূল হাওয়া পাবার কথা নয়। অবশ্য বাতাসে ভেসে আসা বার্তায় এটাও শোনা যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির আগাম সম্ভাবনা মাথায় রেখে, আন্দোলনের নামে আরেকপ্রস্থ ‘আগুন খেলা’ র আয়োজন হতে পারে। বলা যাবেনা কিছুই।
শো-বিজে ক্যারিয়ারে ধস নামলে সেলিব্রেটিরা শুনেছি মিডিয়াকে হাত করে নিজেই নিজের নামে কেলেংকারী রটিয়ে দেন। আলোচনায় আসতে চান। ব্যবসা যদি ফেরানো যায়! খালেদা জিয়া এতটা দুর্দশাগ্রস্ত বলে তো মনে হয়না। তাহলে কি এ বক্তব্য জাস্ট নিকৃষ্ট মানের পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি? কিন্তু এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই তো বেশি হচ্ছে। উনার ব্যক্তিজীবন নিয়ে অশালীন কথার ঝড় উঠেছে আবার! ড. এমাজউদ্দীনদের পরামর্শ কি বিফলে যাচ্ছে? যাহোক বিএনপিপন্থীদের অন্তত এটুকু বুঝা উচিৎ যে শহীদের সংখ্যা নিয়ে কিছু বললেই কী আর না বললেই কী, জনগণ জানে তিনি এবং তার দল বিএনপি জন্মাবধি স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী! এ আর নতুন কথা কী।’






