লিসবন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে লিসবনের জইন্তা ফেগ্রেসিয়া সান্তা মারিয়া মাইওর’র কাউন্সিলর পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন করছেন বাংলাদেশি পর্তুগীজ রানা তাসলিম উদ্দিন। একই এলাকা থেকে তিনি ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আগামী ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে রানা তাসলিম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন পর্তুগালের বর্তমান সরকারীদল পর্তুগিজ স্যোসালিস্ট পার্টি (পিএস) থেকে। একই দল থেকে লিসবনের বর্তমান মেয়র ফার্নান্দো মেদিনা আবারও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রানা তাসলিম উদ্দিন ২০০৯ থেকে পর্তুগাল সোশালিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন এবং তৎকালীন লিসবন সিটি মিউনিসিপালিটি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডঃ আন্তনিয় কোস্টার পক্ষে বাঙ্গালী কমিউনিটিতে কাজ করেন যিনি বর্তমানে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯১ সালের শেষের দিকে তিনি পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসেন। যখন লিসবনে আসেন তখন পর্তুগালে বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখা ছিল মাত্র ৬ জন। ১৯৯২ সালের জুন পর্যন্ত এ সংখা ১২ তে উন্নীত হলে পূর্ববর্তী সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মাত্র ১২ জন বাংলাদেশী নিয়েই প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পর্তুগাল এবং এর সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৩ সালে পর্তুগাল সরকার সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার ঘোষণা দিলে ইউরোপ থেকে ১৮৩ জন বাংলাদেশী আসলে রানা তাসলিম উদ্দিন তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করেন এবং ওই সময়ে তিনি অপরতো শহরের বাংলাদেশের অনারারী কনস্যুলেট থেকে নবাগত বাংলাদেশীদের কনস্যুলেট সার্ভিস দিতেন বিধায় এদেশের লোক তাকে এম্বাসেডর বলে সম্বোধন করতেন। তিনি ১৯৯৪ সালের মে মাসে পর্তুগালের নাগরিকত্ব লাভ করেন।
১৯৯৫ সাল থেকে আজ অবধি রানা তাসলিম উদ্দিন পর্তুগিজ জুডিশিয়াল ট্রাইব্যুনালে, পুলিশ অফিসে, ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চে, এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেসনে, তদন্ত অধিদপ্তরে ও বর্ডার গার্ড অফিসে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দোভাষী হিসেবে কাজ করে আসছেন। দীর্ঘদিন পর্তুগালে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন রানা তাসলিম উদ্দিন।
পর্তুগালের মূলধারার সাথে রানা তাসলিমের সম্পৃক্তা বহু আগে থেকেই। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা মারটিম মনিজে একটা বড় মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার তৈরির জন্য তিনি পর্তুগীজ সরকারের সাথে ২০০৯ সাল থেকে কাজ করছে। বর্তমানে এর কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো খরচ হবে এই কাজে যার মধ্যে আছে জমির দাম, স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ ও নির্মাণ ব্যয়।
সরকারী দল করার সুবাদে সংসদ ও স্থানীয় পৌরসভা থেকে এই অর্থ বরাদ্দ পেতে সুবিধা হয়েছে। এই নির্মাণে স্থপতির ফি বাবদ আড়াই লাখ ইউরো স্থানীয় বাংলাদেশিরা দেবে।
রানা তসলিম বলেন, নির্বাচনের পর এই নির্মাণ কাজ শেষ করাই হবে আমার প্রথম টার্গেট। তিনি এর পর একটি বাংলা স্কুল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। তিনি সবার দোয়া কামনা করেছেন।









