তাইবুন নাহার রশীদ (মরণোত্তর) ও বিবি রাসেল এ বছর বেগম রোকেয়া পদক ২০১৫’র জন্য মনোনীত হয়েছেন। নারীর শিক্ষার বিস্তার, নারীর সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী জাগরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ দুই নারীকে এ পদক দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ পদক দেওয়া হবে।
তাইবুন নাহার রশীদ ১৯১৯ সালের ৫ মে ঢাকা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ভোলা জেলার ব্লান্ডি গার্লস স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।
পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েনাহাইটন বিশ্ববিদ্যালয় এই সাহিত্যিক ও সমাজসেবী নারীকে সম্মানসূচক ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৪৮ সালে তাইবুন নাহার রশীদ পিডব্লিউএনজির পাকিস্তান মহিলা জাতীয় রক্ষী বাহিনীর কমান্ডার ক্যাপ্টেন পদে নিযুক্ত হন। পরে তিনি নিখিল পাকিস্তান মহিলা সমিতির বিভিন্ন শাখার প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মসচিব ছিলেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলা ভাষায় কবিতা লিখে তিনি সরকারের রোষানলে পড়েন। তাইবুন নাহার রশীদ ১৯৭১ সালে ঢাকায় নারীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেন। এ কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের নজরে পড়েন এবং নয় মাস আত্মগোপনে ছিলেন। তাইবুন নাহার ভাষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
রোকেয়া পদক মনোনয়ন পাওয়া আরেকজন বিবি রাসেল। ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিবি রাসেল ১৯৫৯ সালে ঢাকা জেলার কামরুন্নেসা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন থেকে তিনি ১৯৭৫ সালে ফ্যাশন ডিজাইনে স্নাতক ডিগ্রি নেন।
বিবি রাসেল বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও তাঁতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশী নারী, যিনি লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনে পড়ালেখা করেছেন। ফ্যাশন ডিজাইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ১৯৭৬ সালে মডেলিংয়ের কাজ শুরু করেন।
দরিদ্র মানুষের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে বিবি রাসেল নিয়োজিত আছেন। দেশীয় উপাদানে নান্দনিক পোশাক ডিজাইনের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ






