মার্কিন সেনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে(আইএস) সহযোগিতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এক বাংলাদেশীকে যুবক অভিযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার মার্কিন বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন এক্সজামিনারসহ অন্যান্য গণমাধ্যম।
নিলাশ মোহাম্মদ দাস নামের ওই যুবক ওয়াশিংটনের পাশ্ববর্তী হায়াতাসভ্যালির স্থায়ী ও বৈধ বাসিন্দা। ফেডারেল ক্রিমিনাল কোর্ট তাদের অভিযোগে বলেছে, নিলাশ মার্কিন সেনাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
মেরিল্যান্ডের মার্কিন অ্যার্টনি জেনারেল রড রোসেন্সটেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হামলা করার আগেই ভয়ংকর সন্দেহভাজনদের ধরে ফেলা। আমেরিকার বিচার বিভাগের কাছে জনগণ এটাই আশা করে।’
ওয়াশিংটন এক্সজামিনার তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ২৪ বছরের নিলাশ ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তখন তিনি শিশু ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইএসআইকে সমর্থন এবং প্যারিস ও ক্যালিফে সন্ত্রসাসী হামলার প্রশংসা করায় গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই তিনি এফবিআই’র রাডারের তলায় ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত বছরের অক্টোবরে নিলাশ সামাজিক মাধ্যমে এমন একজনের নাম বলেন যিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে রয়েছেন এবং মুসলমানদের হত্যা করতে উৎসাহ দিচ্ছেন। ওই ব্যক্তিকে যেন আগ্রহীরা আক্রমণ করতে পারে সেজন্য তার ব্যক্তিগত তথ্যও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন নিলাশ।
এরপর গত জানুয়ারিতে একটি একে-৪৭ রাইফেলের ছবি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দিয়ে সাথে কুরআনের প্রসঙ্গ টেনে নিলাশ লিখেন, ‘এটা একটি বন্দুকের চেয়েও বেশি কিছু। এটা জান্নাতের টিকেট।’
এর তিন মাস পর এপ্রিলে প্রিন্স জর্জ কাউন্টিতে অস্ত্রের লাইসেন্স চান নিলাশ। তিনি সতীর্থদের বলতেন, তিনি একটি একে-৪৭ ও গ্লোক ৯এমএম কিনতে চান। এজন্য তিনি নিয়মিত গুলি করার অনুশীলন করতেন এবং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছিলেন। এসব ঘটনার পর তার ব্যাপারে তৎপর হয় এফবিআই।
এই ঘটনার এক মাস পর এফবিআই’র এক গুপ্তচরের সাথে সাক্ষাৎ হয় নিলাশের। ওই গুপ্তচরকে তিনি বলেন, আইএসের সাথে তার সম্পর্ক আছে এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর এমন একজনকে হত্যা করতে চান যার ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
এরপর এফবিআইর ওই গুপ্তচর বলেন সেও আইএসের সাথে সম্পর্কিত এবং চাইলে নিলাশ চাইলে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র পেতে পারেন। এরপর ওই গুপ্তচর নিলাশকে এফবিআইর দুটি নিষ্কিয় অস্ত্র দেয়। কিন্তু নিলাশ সেটা জানতো না।
গত মাসে নিলাশ ও গুপ্তচর ভার্জিনিয়ায় একটি অস্ত্রের দোকানে যায় অস্ত্র কিনতে। এরপর সে ৯এমএম বন্দুক ও গোলাবারুদ কেনে। আর গুপ্তচর তাকে সেই সেনা সদস্যের তথ্য দেয় যাকে নিলাশ হত্যা করতে চায়। কিন্তু গুপ্তচরের দেয়া তথ্য ঠিক ছিল না। নিলাশকে ধরতে এবং সেনা সদস্যকে বাঁচাতেই ভুল তথ্য দিয়েছিলেন এফবিআই গুপ্তচর।









