সাউথ আফ্রিকা সফরে টেস্ট সিরিজের হতশ্রীভাব ওয়ানডে সিরিজেও বহাল আছে। বিশেষ করে বোলিং আক্রমণে। বাংলাদেশের পেসারদের নির্বিষভাব তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মোস্তাফিজ-তাসকিন-রুবেলদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ কবে এভাবে কাঠগড়ায় উঠেছে টাইগারদের পেস আক্রমণ, সেটি স্মরণ করা কঠিন। গেল আড়াই বছরে এই পেস আক্রমণ নিয়েই দেশে-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। তাহলে প্রোটিয়া সফরে সমস্যাটা হচ্ছে আসলে কোথায়?
সেটি জানতে চ্যানেল আই অনলাইন কথা বলেছে অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব পালন করা সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে। সাউথ আফ্রিকায় নির্বিষ বোলিংয়ের পেছনে পেসারদের ফিটনেস ও বোলিং অনুশীলনের ঘাটতিই দেখছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
সারোয়ার ইমরানের মতে, ঘাটতি পূরণের প্রেসক্রিপশন হবে- বছরের প্রতিটি সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন বেশি বেশি বোলিং অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তোলা।
‘আমাদের যে অনুশীলন প্রক্রিয়া, সেটাতে পরিবর্তন আনতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ দিন বেশি বেশি বল করতে হবে। খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে আরও শক্তিশালী থাকতে হবে। যেন লম্বা সময় বল করতে পারে। অনেকক্ষণ বল করলে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সুইং, রিভার্স সুইং, নতুন বলে সুইং, স্লোয়ার করা কব্জায় আসবে। অনুশীলনে নেমে ২৪-৩০টা বল করে কোনও লাভ নেই। স্ট্যামিনা তাতে কমতে থাকবে আস্তে আস্তে। নিজে থেকে কাজ করতে হবে। ক্যাম্পের আশায় বসে থাকলে হবে না। অনেকে শুধু জিম করে। জিম আর বোলিং এক জিনিস নয়। অনুশীলনে ৬ ওভার বোলিং আর ম্যাচের ৬ ওভার বোলিংও এক নয়। অনুশীলনে মানসিক চাপ থাকে না। কিন্তু ম্যাচে যখন বল করে তখন চাপের তীব্রতা অনেক বেশি থাকে।’ পরিস্থিতি বোঝাতে অভিজ্ঞ কোচের ভাষ্য এমনই।

ফিটনেসে পেসারদের দুর্বলতা স্পষ্টই ধরা পড়ে। গত তিন বছরে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ছাড়া জাতীয় দলের রাডারে থাকা সব পেসারই বিভিন্ন সময়ে ইনজুরিতে পড়েছেন। কেউ কেউ পড়েছেন একাধিকবার। সবশেষে ইনজুরিতে পড়ে সাউথ আফ্রিকা সিরিজ শেষ হয়ে গেছে মোস্তাফিজুর রহমানের। দুটি টেস্ট খেলে দেশে ফিরে আসছেন পেস আক্রমণের অন্যতম অস্ত্র এই বাঁহাতি।
বাংলাদেশের একজন পেসার ইনজুরি কাটিয়ে ফিট হয়ে উঠতেই আরেকজন ছিটকে যাচ্ছেন। ধারাবাহিক ভাল পারফরম্যান্সের পেছনে এটিকেই বড় অন্তরায় ভাবছেন সারোয়ার, ‘এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পেস বোলারদের নিজেদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা আরও শক্তিশালী হবো ফিট থাকব, এই প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে। আমার মনে হয় না আমাদের পেসাররা অত স্ট্রং। সেজন্য বারবার ইনজুরি পড়ে। বাইরের পেস বোলাররা যত স্ট্রং, সে তুলনায় আমাদের পেস বোলাররা স্ট্রং নন। কেননা তারা কমফোর্ট জোনে থেকে অনুশীলন করে। কেউ হয়ত গল্প করতে করতে বোলিং করছে। এই জিনিশগুলো বাদ দিতে হবে। আরও সিরিয়াস হতে হবে।’
সারোয়ার ইমরান মনে করেন এসব কাজ পেসারদের নিজের তাগিদেই করতে হবে। কোচের মুখ চেয়ে বসে থাকলে চলবে না, ‘কোচের উপর সব দায়িত্ব দিয়ে দিলে হবে না। এটা কোচের জন্য অসম্ভব ব্যাপার। কোচ পথ দেখাতে পারেন। কিন্তু খেলোয়াড়দের নিজ থেকেই উপলব্ধি করতে হবে।’

বিসিবির বিভিন্ন দলের কোচ হয়ে চারবার সাউথ আফ্রিকা সফর করেছেন সারোয়ার। এবার টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে বাংলাদেশের টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে যেমন উইকেট দেখেছেন, তা আগে কখনও দেখেননি বলে জানালেন। এমন উইকেটে বোলার-ব্যাটসম্যানদের অসহায়ভাব দেখে ভীষণ হতাশ তিনি। টেস্ট সিরিজে বাজে খেলার প্রভাব দল ওয়ানডে সিরিজেও বয়ে বেড়াচ্ছে বলে মত তার, ‘কন্ডিশন আমাদের বিরুদ্ধ ছিল না। সব উইকেটই আমাদের দেশের মতো ছিল। ঘাস ছিল না। আমাদের আরও ভাল করা উচিত ছিল। টেস্ট দিয়ে শুরু হয়েছে। টেস্টে আমরা এত খারাপ করেছি যে, তার প্রভাব ওয়ানডেতেও পড়েছে। আমাদের ন্যাচারাল যে টেকনিক, সেটা প্রয়োগ করতে পারছি না বোলিং-ব্যাটিং দুটোতেই।’









