“আমার সাহসী, একাকী যুদ্ধ করে যাওয়া আব্বু যেন সুস্থ থাকে, খুশি থাকে। বিচারহীনতার এই দেশে আমিও বিচার চাই না।” অসুস্থ বাবাকে কারাগারে পাঠানোয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এভাবেই আবেগ-হতাশার মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রবাসী কন্যা শামারুহ মির্জা।
বাবাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে শামারুহ লিখেছেন, “… ৬ মাস জেল খেটে আব্বু বের হয়ে আমেরিকা যায় চিকিৎসার জন্য। দেশে এর ভাল চিকিৎসা নেই। আব্বুর বয়স ৬৮। আর ব্লকটা ডেলিকেট জায়গায় বলে সার্জারি করতে রাজি হলো না ডাক্তার। আব্বুকে আমি মানা করলাম দেশে যেতে। নাহ, আমার লজ্জা নেই স্বীকার করতে। আমি তাকে নিষেধ করেছি দেশে যেতে। কারণ আমি দেখেছি কি অমানুষিক যুদ্ধ করেছে আমার আম্মু।…
আব্বু ফিরে গেল। ফিরে গিয়ে আব্বু দেখল তার বন্ধুর একমাত্র ছেলের নিজ অফিসে খুন হয়ে যাওয়া। আব্বু আজ আবার জেলে। কোন অপরাধ না করে।
‘কিপ ইউর মোরালস হাই’… জেলে যাওয়ার আগে এই কথাটাই বলে গেল আব্বু আজ। আব্বুর জন্য কেনা জিয়া হায়দারের বইগুলো পাঠাবো কাল। আমার সাহসী একাকী যুদ্ধ করে যাওয়া আব্বু যেন সুস্থ থাকে, খুশি থাকে। বিচারহীনতার এই দেশে আমিও বিচার চাই না।”
অভিমান ভরা এই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরেই মির্জা ফখরুলের পরিবার কী ভাবছে জানতে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইন কথা বললে তিনি জানান,” শুধুমাত্র বিরোধী রাজনীতির জেরে অসুস্থ বাবাকে জেলে পাঠানো হলে যেকোনো সন্তানের জন্যই মেনে তা নেয়া কঠিন। মেয়ের অভিমানটা আসলে সেটা নিয়ে। অভিমানে বিচার না চাওয়ার কথা বললেও আমরা বিশ্বাস করি সুবিচার পাবো “।
মির্জা ফখরুল সম্পর্কে তার স্ত্রী বলেন,“ তিনি একজন নির্ভেজাল মানুষ, রাজনীতিও করেছেন সহজ-সরল ভাবে। অথচ শুধুমাত্র বিরোধী রাজনীতির কারণে তাকে অসুস্থ অবস্থাতেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ৬৮ বছর বয়স্ক মানুষটির হার্টে সমস্যা, ব্লক ধরা পড়েছে। এতোই গুরুতর যে বিদেশে চিকিৎসকরাও অস্ত্রপোচার করতে দ্বিধা করে আসছে। এবার তার জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে নেয়ার সময়ও তিনি আমাকে বললেন, তার খারাপ লাগছে”।
দেশের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আছে জানিয়ে ফখরুলের স্ত্রী বলেন,“ তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের সুনির্দিষ্ট সামনের শুনানিতে অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেয়া হবে এই আশায় আছি”।
নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এর আগেরদিন তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ এবং নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেনের আদালতে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১৩ জুলাই শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ছয় সপ্তাহের জন্য বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে দু’দফায় তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।






