প্রথমবার ফাইনাল খেলতে এসেই বাজিমাত! রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঞ্জালুরুকে ৮
রানে হারিয়ে আইপিএল নবম আসরের শিরোপা তুলে নিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের
সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। তবে গেইল-কোহলি জুটিতে একসময় ব্যাঙ্গালুরুর কাছে সময়ের ব্যাপার মনে হতে থাকা জয়কে নিঃশ্বাস দূরত্ব থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন মুস্তাফিজ-ভুবনেশ্বররা।
শেষ দুই ওভারে ব্যাঙ্গালুরুর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ৩০ রান। বল হাতে এসে প্রথম বলেই স্টুয়ার্ড বিনিকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন কাটার মাস্টার। আর দ্বিতীয় বলেই ক্রিস জর্ডানের সহজ ক্যাচ ফেলেন বারিন্দার স্রান। শেষ পর্যন্ত ওই ওভার থেকে আসে ১২ রান।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। ভুবনেশ্বরের করা ওভারের প্রথম দুই বল থেকে আসে ৩ রান। তৃতীয় বলে শচীন বেবি রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। চতুর্থ বলে লেগ বাই হলে তা থেকে আসে মাত্র এক রান। শেষ দুই বলে ১৪ রানের অসম্ভব টার্গেট। শেষ পর্যন্ত ৮ রান বাকি থাকতেই থামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের ইনিংস। মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ৩৭ রান খরচ করে তুলে নেন ১ উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে সানরাইজার্স সংগ্রহ করে ২০৮ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত ছিলো কোহলি-গেইলদের। ওপেনিং জুটি থেকেই তারা তুলে নেয় ১১৪ রান। এদিন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ক্রিস গেইল। ধুমধাম ব্যাটিংয়ে ৩৮ বল খেলে তুলে নেন ৭৬ রান। ব্যাতিক্রম ছিলেন শুধুমাত্র মুস্তাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ ওভারে বল করতে এসে খরচ করেন মাত্র ৪ রান। প্রথম দুই বলে কোহলি রান নিতে ব্যর্থ হলেও তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক দেন গেইলকে। প্রথম বলে রান নিতে ব্যর্থ গেইল। পঞ্চম বলে এক রান নিয়ে অাবার স্ট্রাইকে কোহলি। শেষ বল মিড লেগে ঠেলে দিয়ে কোহলি সংগ্রহ করেন দুই রান।
দশম ওভারে অবশ্য মুস্তাফিজ খরচ করেন ১২ রান। ওভারের প্রথম দ্বিতীয় বলেই চার ও ছয়ে দশ রান তুলে নেন কোহলি। তৃতীয় বলে এক সিঙ্গেলে স্ট্রাইকিংয়ে আসেন গেইল। তবে শেষ দুই বলে এক রানের বেশি আর আসেনি।
১১তম ওভারে বেন ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে সানরাইজার্সকে প্রথম সাফল্য এন দেন বেন কাটিং। ১৩ তম ওভারে ফেরেন কোহলি। বারিন্দার স্রানের শিকার হয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৫৪ রান।
শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আর কেউ বড় স্কোর গড়তে না পারলে ২০০ রানে থামে গেইল-কোহলিদের ইনিংস। ৮ রানের হতাশার হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।
এর আগে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না সানরাইজার্সের।
ইনিংসের প্রথম পাঁচ বলে মাত্র তিন রান! ম্যাড়ম্যাড়ে শুরুর আভাস থাকলেও ওই
ওভারের শেষ বলে শ্রীনাথ অরবিন্দকে সীমানা ছাড়া করে সে শঙ্কা উড়িয়ে দেন শিখর
ধাওয়ান। তবে দ্বিতীয় ওভারর পঞ্চম বলেই ধাওয়ানকে তুলে নেওয়ার সুযোগ
পেয়েছিলেন ক্রিস গেইল। কিন্তু সে সুযোগে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন গেইল।
তখন দুই ওভার শেষে রান মাত্র ১২।
শেষ ম্যাচেও যে ওয়ার্নর চমক অপেক্ষা
করছে তা কে জানতো! অরবিন্দকে তৃতীয় ওভারের শেষ দুই বলে সীমানা ছাড়া করে
জানান দিলেন এই ম্যাচেও জেগে উঠার বার্তা। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার থামেন ৩৮
বলে ৬৯ রানের চকচেকে ইনিংস খেলে।
তার আগেই অবশ্য ধাওয়ানকে সঙ্গী করে
খেলেন ৬৩ রানের অবিচ্ছিন্ন ইনিংস। ক্রিস জর্দানের বলে যুবেন্দ্রর চাহালার
হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ধাওয়ান খেলেন ২৫ বলে ২৮ রানের কার্যকারী ইনিংস।
ধাওয়ানের
বিদায়ের পর মইসেস হেনরিকস ক্রিজে এলেও থিতু হওয়ার আগেই ফিরে যান। দ্বিতীয়
উইকেট জুটিতে ওয়ার্নারের সঙ্গে ৩৬ রানের জুটিতে তার অবদান ছিলো মাত্র ৪
রানের। তার বিদায়ে ওয়ার্নারের সঙ্গী হন যুবরাজ সিং।
যুবরাজকে সঙ্গে
নিয়ে ওয়ার্নার তুলে নেন ২২ বলে ২৮ রান। দলীয় ১২৫ রানের ফেরেন ওয়ার্নার। শেষ
দিকে যুবরাজ খেলেন ২৩ বলে ৩৮ রানের ইনিংস। যুবরাজকে ফেরান জর্ডান। বেন
কাটিং ১৫ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন।









