পশ্চিম বঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের একটি সাক্ষাতকার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে মুস্তাফিজকে করা দৈনিকটির সাংবাদিকের অনেক প্রশ্নেই আপত্তি আছে অনেক বাংলাদেশীর।
সাক্ষাতকারটি শুরুই হয়েছে এমন কথায় যে, তার (মুস্তাফিজের) হাত থেকে বেরনো কাটারগুলো খেলা ব্যাটসম্যানের পক্ষে যতটা কঠিন, তার চেয়েও কঠিন বোধহয় তাঁর মুখ থেকে ভাল কথা বার করা।
অনলাইনে সাক্ষাতকারটি পড়ে অনেকেই প্রশ্ন রেখেছেন, এর অর্থ কি এমন যে মুস্তাফিজ ভাল কথা বলেন না? বা বলতে পারেন না!
আবার সাক্ষাতকারে দাবি করা হয়, মুস্তাফিজ টেলি সাক্ষাতকারে যেসব কথা বলেছেন তার অধিকাংশই ছিল বিরাট কোহলিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু, সাক্ষাতকারটি পড়লে বোঝা যায়, মুস্তাফিজ নিজে থেকে কিছু বলেন নি; প্রশ্ন করে করে তার কাছ থেকে কোহলি সম্পর্কে অনেক মন্তব্য বের করে নেয়া হয়েছে।
তবে সেই প্রশ্ন করার ধরণ নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে।
যেমনএক জায়গায় সাক্ষাতকার গ্রহণকারী প্রশ্ন করেছেন: এটা কোনও কথা হল? বিরাটের বিরুদ্ধে বল করলে কোনও প্ল্যান থাকবে না হয়?
অথচ তার আগেই মুস্তাফিজ কোহলিকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন: আমি তো খেলা নিয়ে ভাবি। আলাদা করে কাউকে নিয়ে ভাবতে যাই না তো। যদি কাল খেলি, সেরাটা দেব এটুকু বলতে পারি।
পরে ‘এটা কোনও কথা হল’ জাতীয় প্রশ্নের উত্তরে মুস্তাফিজ বলেন: আমি তো উইকেট পাওয়ার জন্য খেলি না। বোলিং করে আনন্দ পাওয়ার জন্য খেলি।
উইকেট পেলে ভাল লাগে। আর আমার মনে হয়, যে বলটা আমি করি সেটা খেলতে সবারই
অসুবিধে হয়। দাদারও (বিরাট কোহলিরও) হয়।
আরো অনেক প্রশ্ন করেই মুস্তাফিজকে তাঁতিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সাক্ষাতকার গ্রহণকারী সাংবাদিক। তবে, কাটার দেয়ার মতোই ডিফেন্সও খুব ভালো করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
যেমন একটি প্রশ্ন ছিলো: আজ সন্ধেয় আপনাদের প্র্যাকটিস আছে চিন্নাস্বামীতে। মাঠে নামার সময় কোনও অনুভূতি হবে না? মনে হবে না যে, এখানে সে দিন বিশ্বকাপের ভারত ম্যাচটা আর একটু হলেই জিতে গিয়েছিলাম!
উপযুক্ত উত্তরেই মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন: নাহ্। হবে না। কী হবে মনে করে? যদি দেশের হয়ে খেলতে আসতাম, মনে হয়তো পড়ত। কিন্তু এখন আইপিএল খেলতে এসে দিনটাকে মনে করে আর লাভ কী? ফিরে তো আসবে না দিনটা। পাল্টেও যাবে না কিছু।









