বিশ্বজুড়েই মানবাধিকার লংঘনের মহাউৎসবের মধ্যে পালিত হচ্ছে মানবাধিকার দিবস। তালিকা করলে তা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে। বাংলাদেশেও মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা কম নয়, বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’-এ মৃত্যু চলছেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গুম। বিশেষ করে সাদা পোশাকে কোনো বাহিনীর পরিচয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ থাকার ঘটনা কম নয়। সত্য যে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ যখন দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা তখন জঙ্গিবাদ দমনে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। তবে, জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যে বন্দুকযুদ্ধ সেখানে ‘হয় মরো নয় মরো’ অবস্থা তাই দৃশ্যমান ওইসব অভিযানের বিষয়ে সাধারণ মানুষের আপত্তি আমরা দেখি না। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ ধানক্ষেত কিংবা রাস্তার পাশে লাশ পাওয়ার মতো ঘটনায় জনগণের প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে সম্প্রতি আমরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর সংঘবদ্ধ আক্রমণের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। আর ডিজিটাল এ যুগে ৫৭ ধারার ফ্যাসাদতো রয়েই গেছে। রাজধানীতে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘এসো সবাই ঐক্য গড়ি সবার অধিকার রক্ষা করি’ বিষয়ক আলোচনায় এ বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। আশার কথা যে আইনমন্ত্রী সেখানে আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন হচ্ছে সেটি কার্যকর হলে ৫৭ ধারা নিয়ে সব বিতর্ক দূর হবে। তবে ‘গুম’ যাকে সরকার ‘নিখোঁজ’ বলতে চায় সেটিকে তদন্তাধীন বিষয় বলে মন্তব্য করতে চাননি আইনমন্ত্রী। অতীতেও আমরা এরকম তদন্তের কথা শুনেছি, কিন্তু কোনো ফল দেখিনি। তারপরও আইনমন্ত্রীর ‘তদন্ত’ বক্তব্যে আরো একবার ভরসা রাখতে চাই। আশা করতে চাই যে সরকার সত্যিসত্যিই তদন্ত করে জনগণের সামনে সত্য প্রকাশ করবে। বিশেষ করে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে ‘দেশের সংবিধান ও নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তার সরকার প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে গত সাড়ে সাত বছর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’ বলে যে কথা বলেছেন তাতে আমরা আস্থা রাখতে চাই। তার সরকার ‘ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ-ব্যাধি ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এসব সমস্যার কারণেই মানবাধিকার ও মর্যাদা লংঘিত হয় এবং কতিপয় লোক মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়-বিচারের পরিপূর্ণ উপভোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য খুবই যৌক্তিক বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়-বিচারের পরিপূর্ণ উপভোগে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য তার সরকার আরো সচেষ্ট হবে।









