ভিকটোরিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটি ফাউন্ডেশন (ভিবিসিএফ) এর উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার ভিকটোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপিত হয়ে আসছে ২০১৭ সাল থেকে| অমর একুশের স্মরণে এতদিন ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হলেও, মেলবোর্নে ছিল না স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার। তবে ভিবিসিএফ এর নেতৃবৃন্দের একান্ত ইচ্ছায় ও নিরলস প্রচেষ্টায় এবং এখানকার উইন্ডহ্যাম কাউন্সিল এর সম্পূর্ণ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হলো ‘Wyndham Mother Language Public Art Work’ (এর মূল ভাবনা বাংলাদেশের শহীদ মিনার এর কনসেপ্ট থেকেই গৃহীত), টার্নেট জেলার জুলিয়া গিলার্ড লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে।
গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি শনিবারে মেলবোর্নের বাংলাদেশী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত টার্নেটে উইন্ডহ্যাম মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ পাবলিক আর্ট ওয়ার্ক বা শহীদ মিনার এর শুভ উদ্বোধন হলো। আর তাই এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদযাপন-অনুষ্ঠানটি ছিল বিশাল সমারোহের।
কাউন্সিলর, ডঃ জেনি ব্যারেরা উইন্ডহাম সিটি কাউন্সিলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ফিজিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবার কথা ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি সশরীরে থাকতে না পারায় লিখিত বক্তব্য পাঠান। পুরো আয়োজনের উপস্থাপক ও সঞ্চালক মো: ইফতেখার সাদিক ইফতি তার পক্ষে সেই লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন এমপি জোয়ান রায়ান, এমপি বার্নি ফিন, মুক্তিযোদ্ধা (বর্তমানে এখানে বসবাসরত শিল্পপতি) কামরুল চৌধুরী প্রমুখ। ভিবিসিএফ এর পক্ষে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন এ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মামুন আল বদরুদ্দজা পলাশ। এরপর বক্তব্য রাখেন ভিবিসিএফ এর এগজিকিউটিভ মেম্বার নুসরাত ইসলাম বর্ষা, সাবেক সভাপতি ইউসুফ আলী সহ আরো অনেকে। স্থায়ী এ মনুমেন্ট টি প্রাপ্তিতে সিনিয়রদের নামের সাথে আরো যেই দুজনের নাম বারবার উঠে এসেছে তাঁরা হলেন ওয়েস্টার্ন রিজিওন বাঙলা স্কুলের(WRBS) প্রিন্সিপ্যাল মোর্শেদ কামাল এবং ভিবিসিএফ এর বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন।
দিনব্যাপি চলেছে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, WRBS এর বাচ্চাদের পরিবেশিত গীতিনাট্যটি দর্শকদের অভিভূত করে তোলে।
এই আয়োজনে ছিল ছোট্ট পরিসরে বাংলা বইয়ের একটি বইমেলাও। দূরদূরান্ত থেকে শয়ে শয়ে মানুষ আসতে থাকেন প্রভাত ফেরীতে অংশ নিতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে এবং স্থায়ী শহীদ মিনার প্রাপ্তির আনন্দ-ইতিহাসে অংশীদার হতে। দেখা যায় প্রচুর ভিন্ন দেশী এবং ভিন্ন ভাষী মানুষের জমায়েত।
এই আর্ট ওয়ার্ক বা শহীদমিনার উদ্বোধনের মূলপর্ব টি শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের ফায়ারবল সিরিমনির মধ্যে দিয়ে।
শহীদ মিনারের এই আর্ট ওয়ার্ক প্রজেক্টে কাজ করেছেন বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ জন গুণী শিল্পী।










