ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র পাঁচ শতাংশ, এমন খবরের শিরোনাম যেমন শিক্ষা ব্যবস্থার এক নেতিবাচক চিত্র দেখায়, তেমনই বাণিজ্য অনুষদের মোট আসনের দ্বিগুণ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন খবর এক ইতিবাচক গল্প শোনায়। দু’ দিক থেকেই কিন্তু একই তথ্য দেওয়া হয়। নেই কোনো তথ্যের ভুল, দুটির প্রভাব আসে দু’ ধরনের। এ বিষয় নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইন কথা বলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শান্তনু মজুমদার বলেন: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার ৫ শতাংশই হোক বা আসন সংখ্যার দ্বিগুণ পাস করুক, মূল কথা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কখনো তার মান হারাচ্ছে না। বরং বলা যেতে পারে যে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে যে পরিমাণ যোগ্যতা থাকা দরকার সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু শিক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য তাদের মান কমিয়ে ফেলতে পারে না। কমাবেও না। এমনতো না যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আসন পূরণ করার মতো শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। বরং সেটা তো পূরণ হচ্ছেই। তাহলে বাকিরা যারা পাস করছে না তাদের ভিতটাই তৈরি হচ্ছে না। তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তো বিশ্ববিদ্যালয়ের না। সেজন্য গুরুত্ব দিতে হবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে। রাষ্ট্র যদি আরো বেশি বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষিত জাতি চায় তাহলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাড়তি উন্নয়নে নজর দিতেই হবে। নজর দিতে হবে শিক্ষার গোড়ার দিকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, জিপিএ ৫ বা গোল্ডেন ফাইভের জোয়ারে আমরা আমাদের একটা প্রজন্মের শিক্ষাকেই পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছি। রেজাল্ট কিন্তু কখনোই শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবককে খুশি করার বিষয় না। যে যেটা ডিজার্ভ করে তাকে সেটা দেওয়ার নামই ভালো রেজাল্ট। আজ যদি ৫ শতাংশ ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় পাস করে তাহলে সেই চিত্রই আমাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। তার মানে সেই যোগ্যতা শিক্ষার্থীর মধ্যে তৈরি হচ্ছে না যে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। সেই কথাগুলোই আমরা অনেক আগে থেকে বলে আসছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি এখনো ঠিক আছে বলেই আমরা এখনো কিছু যোগ্য ছেলেমেয়ে পাই। যাদের নানান রকম সহযোগিতা দিয়ে আরো সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের সবসময় মানের দিকে নজর রাখা উচিত, পরিমাণের দিকে নয়। তাহলে টের পাওয়া যাবে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। তখন সেগুলোতে নজর দেওয়া যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মনিরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের সংখ্যার দিকে নয় শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এমন অনেক অনেক এ+ পাওয়া শিক্ষার্থী থাকে যারা মেরিট লিস্টে চান্স পর্যন্ত পায়নি। সেই জায়গাগুলোতেই বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি।
শিক্ষকরা বলছেন, কত শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলো সেটার চেয়ে বরং যারা পাসও করতে পারছে না তারা কেন করতে পারছে না সেদিকেই নজর দেওয়া বেশি জরুরি।









