ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে এখনও বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি রয়েছে। উত্তাল সাগরের ঢেউ দমাতে পারছে না পর্যটকদের।
সৈকতে লাল পতাকা টানানোর পরেও সাগরে অসংখ্য পর্যটক নামছেন বলে জানিয়েছে লাইফ গার্ড কর্মীরা। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে ।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অশনির কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে কয়েকদিন থেকে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বড় বড় ঢেউ আছড়ে এসে পড়ছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে টানানো হয়েছে লাল পতাকা। সাগরের বড় ঢেউ প্রচণ্ড বাতাস লাল পতাকা সবকিছু উপেক্ষা করে সৈকতে পর্যটকের ভিড় জমেছে। সৈকতে গিয়ে দেখা যায় বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে পানিতে নেমে হৈ চৈ করছে আগত পর্যটকরা।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, সাগরের ঢেউ বড় হয়েছে তাতে সমস্যা নেই, আমরা এখানে বন্ধুরা মিলে আনন্দ করতে এসেছি আর আনন্দ করেই যাবো।
ফেনী থেকে আসা পর্যটক রবিউল ইসলাম বলেন, অনেকদিন পর কক্সবাজার এসেছি, আবহাওয়া খারাপ। তারপরও সাগরের বড় বড় ঢেউ দেখে ভালো লাগছে।
কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে আসা পর্যটক বেলাল আহমদ বলেন, করোনার কারণে দুই বছর পর কক্সবাজার এলাম, সাগর উত্তাল থাকার পরেও সাগরে নেমে গোসল করেছি। প্রচণ্ড বাতাস আর সাগর উত্তাল থাকার মাঝেও অন্যরকম একটি অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছে।
লাইফ গার্ড কর্মী মো. ইউসুফ বলেন, সাগর উত্তাল রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের ডিউটি অনেক বেড়ে গেছে। ৫ মিনিট পর পর মাইকিং করে হুইসল বাজিয়ে তাদের সাগর থেকে উঠাতে হচ্ছে। পর্যটকরা কোনভাবেই উঠতে চাচ্ছেন না। অনেক সময় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন তারা। তারপরও আমরা তাদেরকে সাগর থেকে তুলে আনার চেষ্টা করে আসছি।
সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝিনুক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দুলাল বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কক্সবাজারে পর্যটক আশায় আমাদের বিক্রি অনেক বেড়েছে। করোনার কারণে দুই বছরে আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, সাগর উত্তাল থাকার পরেও অনেক পর্যটক রয়েছে এখন কক্সবাজারে। আমরা এসব পর্যটকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি সব সময়। করোনার কারণে আমরা ব্যবসায়িকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা চাই এভাবে পর্যটকরা আসতে থাকুক কক্সবাজারে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক টুরিস্ট পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে । পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে পুলিশ।









