‘বৃক্ষমানব’ খ্যাত বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত আবুল বাজানদারের দুই হাত এখন ৯৫ ভাগ সুস্থ। তবে
দীর্ঘ এক দশক দুই হাতের ব্যবহার না করায় ‘অকুপেশনাল থেরাপির’ সহায়তায়
হাতের স্বাভাবিক ক্ষর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আর ডিএনএ’র ত্রুটির
কারণে বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত আবুল বাজানদারকে আগামী ১০-১৫ বছর
পর্যবেক্ষণে রাখবেন চিকিৎসকরা।
হাতে-পায়ে শিকড় নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দশ বছর দুর্বিষহ জীবন কাটিয়ে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন আবুল বাজানদার। প্রায় আট মাস হাসপাতালের কেবিনে তিন বছরের শিশু সন্তান তাহেরা, প্রিয় স্ত্রী হালিমাকে নিয়েই বৃক্ষমানব আবুল ক্ষণে ক্ষণেই উপলদ্ধি করেন নতুন এক জীবনের স্বাদ।
আবারও কাজ করে স্বাভাব্কি জীবনে ফিরতে পেরে, মেয়েকে নিজের হাতে আদর করতে পেরে খুশি আবুল বাজানদার। কৃতজ্ঞ ডাক্তারদের প্রতিও।
গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনির্টে ভর্তির পর ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ডান হাতের শিকড় অপাসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দুই হাত ও এক পায়ের শিকড় অপসারণে নয়টি অস্ত্রোপচার করেছেন দশ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকে দল।
আবুলের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডর প্রধান এবং প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম বলেন, কিছু কিছু জয়েন্টে সে মুভমেন্ট করতে পারে আর কিছু কিছু জয়েন্টে মুভমেন্ট নেই। সেই মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা তাকে ফিজিওথেরাপি অন রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের মধ্যে সেট করছি। এর আগেও এমন দুজন রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। তাদের একজন ইন্দোনেশিয়ায় এবং অন্যজন রোমানিয়ায়। ইন্দোনেশিয়ার রোগীর কিছু ছবি আছে। তাদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় আমাদের চিকিৎসা অনেক অনেক উপরে।
দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকা বৃক্ষমানব এখন সকলের প্রিয়জন হয়ে উঠেছেন। চিকিৎসকরাও আবুলের প্রতিটি বিষয়ে নিবিড় খোঁজ খবর রাখেন সবসময়।
অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এখানে ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে অধ্যাপক, সবার তার জন্য প্রচেষ্টা, সততা এবং সচেতনতা রয়েছে সেটাই আজ তাকে সুস্থ করে তুলেছে। আমাদের দেশের চিকিৎসকরা সুযোগ পেলেই ভালো কাজ করতে সক্ষম।
চিকিৎসকরা বলছেন, আবুল বাজানদারের ডিএনএ’র ত্রুটির কারণেই বিরল ‘এপিড্রার্মোসিস প্লাসিয়া ভেরুকাকমেস’ রোগে আক্রান্ত। ভবিষ্যতে আবারো আবুল এতে আক্রান্ত হবে কি না তা জানতে ডিএনএ ম্যাপিং রিপোর্টের অপেক্ষায় তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের কমপ্রিহেনসিভ মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারে পাঠানো আবুল বাজানদারের ডিএনএ রিপোর্ট পেতে আরো ২-৩ মাস সময় লাগবে।









