তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে গেলে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্ব। সংলাপের আগেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিএনপির বিষয়ে। আজকের সংলাপে বিএনপির সক্রিয় ভূমিকা দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক দিক। সংলাপ থেকে বের হয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে কিছুটা আশাবাদী হতেই হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন: ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের সংলাপ নিছক প্রহসনের সংলাপ হবে না বলে আমরা করছি। কমিশন আমাদের প্রস্তাবগুলো সানন্দে গ্রহণ করেছে এবং তারা আলোচনা করে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। আজকের সংলাপে বিএনপি প্রতিনিধিদল ২০টি প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন, ১/১১-এর সময়ে দায়ের করা খালেদা জিয়ার সকল মামলাসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশকৃত মামলা তুলে নেয়া, গুম-খুন বন্ধ করা, সকল দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া, ১৯৭২ এর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন, সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, প্রশাসনকে নির্দলীয়করণ, ব্যালট পেপারে দৃশ্যমান জলছাপের ব্যবহার, প্রবাসী ও কারাভোগীদের ভোটার তালিকায় সংযোজন ও মৃতদের নাম বাদ দেয়া, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করা। বিএনপির সংলাপে যোগদান ও প্রস্তাবগুলো সর্ম্পকে বেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ বিএনপির বিগত আমলের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বক্তব্যও দিয়েছেন সিইসি। সার্বিক দিক বিবেচনা করলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে বলে আমরা ধরে নিতে পারি, যা ভোটভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির দাবিগুলোর প্রেক্ষাপট ও ন্যায্যতা যাচাই করে ইসি যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের আশাবাদ। শুধুমাত্র সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নয়, সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক এই আমাদের প্রত্যাশা।









