দলে তিনি কড়া হেডমাস্টার হিসেবে পরিচিত। শৃঙ্খলার ব্যাপারে ছাড় দিতে নারাজ। ইতিমধ্যে একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে চিনিয়েছেন। সেই হাথুরুসিংহের স্বপ্ন, ২০১৯ সালে বিদায় নেয়ার আগে বাংলাদেশকে ১৯৯৬ সালের শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থানে রেখে যেতে চান।
১৯৯৬ সালের দিকে বিশ্বক্রিকেটে অনেকটা চমক হিসেবে আবির্ভূত হয় শ্রীলঙ্কা। তৎকালীন প্রথম সারির দলগুলোকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করে তারা। ক্রিকেটপ্রেমীরা চিনতে শুরু করে অরবিন্দু ডি সিলভা, মুত্তিয়া মুরালিধরন এবং সনাৎ জয়সুরিয়ার মতো ক্রিকেটারকে। খুব তাড়াতাড়ি তারা টেস্ট ক্রিকেটেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করেন।
বাংলাদেশ সম্প্রতি হাথুরুসিংহের অধীনে টেস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। এছাড়া ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভালো করার পাশাপাশি এশিয়া কাপের ফাইনালও খেলে। শুধু তাই নয় ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন সাকিবরা। ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে এই টুর্নামেন্টে খেলতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
‘২০১৯ সালে আমি বাংলাদেশকে ওই জায়গায় রাখতে চাই, ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কা যেখানে ছিল,’ শ্রীলঙ্কার পত্রিকা দিভাইনা’র সঙ্গে আলাপকালে বলেন হাথুরুসিংহে।
‘এটাই আমার টার্গেট। যাই ঘটুক, আমি বাংলাদেশে চিরদিন থাকার প্রস্তাব পাবো না। আমি পদত্যাগও করবো না। শুধু তখনই ছেড়ে আসার কথা ভাববো, যখন আমি যা চাই তা করতে পারবো না। কিন্তু এখনো সেই পরিস্থিতি আসেনি।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটে হাথুরুসিংহেকে এখন ‘অসীম ক্ষমতাধর’ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কোচের সিদ্ধান্ত অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। তার পরামর্শ মেনে দ্বিস্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।
হাথুরুসিংহে বাংলাদেশে কাজ করে খুশি হলেও শ্রীলঙ্কা ডাকলে ফেলে দেবেন না বলেও জানিয়েছেন, ‘শ্রীলঙ্কা ডাকলে আমি অবশ্যই আসবো। আমি আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি এই শ্রীলঙ্কার জন্যই। এখানেই সব শিখেছি। এখানে ২০ বছর শেখার পর অস্ট্রেলিয়া চলে যাই। সেখানেও অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু দেশ থেকে ডাক পেলে খুশি মনে ফিরে আসবো।’









