বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি শিশু সাহিত্য পুরস্কার, কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কারজয়ী কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ বরাবরের মতো এবারও পাঠকের জন্য হাজির হয়েছেন কতগুলো বিষয়ভিত্তিক বই নিয়ে। সায়েন্স ফিকশন, হরর, কিশোর গোয়েন্দা গল্প আর প্যারাসাইকোলজি নিয়ে তার লেখা।
এ বছর তার চারটি বই বের হয়েছে। এর মধ্যে অনিন্দ্য থেকে এসেছে তিনটি বই।
প্যারাসাইকোলজি ‘জোছনার ছায়া’
মাঝরাত। জোছনা হাঁটছে লাল ইটের একটা রাস্তা দিয়ে। হঠাৎ সে অনুভব করে কেউ তাকে অনুসরণ করছে। পেছনে তাকিয়ে দেখে একটি ছায়া। ভয়ে দৌড় দেয় সে। প্রবেশ করে নির্জন এক জমিদারবাড়িতে। কিন্তু ছায়া তার পিছু ছাড়ে না। একেবারে এসে থামে তার সামনে। জোছনা চিনতে পারে না ছায়ার পুরুষটিকে, মুখের ওখানে জমাটবাঁধা অন্ধকার। শুধু খাড়া দুটো কান দেখা যায়। ভয়ে জমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় জোছনার। এই বুঝি ছায়াটা তার কোনো ক্ষতি করে। কিন্তু না! কী যেন বলতে চায় ছায়া। বলতে চেষ্টা করেও পারে না। তারপর হঠাৎই ধীরে ধীরে বিকৃত হয়ে যেতে থাকে ছায়ার চেহারা। ভয়ে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে জোছনা।
জোছনার স্বামী বাদল তখন ডেকে তোলে জোছনাকে, বলে পুরো বিষয়টা ছিল স্বপ্ন। কিন্তু এই একই স্বপ্ন বারবার দেখতে থাকে জোছনা। এক সময় বাদল বুঝতে পারে জোছনার এই স্বপ্নের বিশেষ কোনো অর্থ আছে। তাই আসে ডাক্তার তরফদারের কাছে। জোছনার সাথে কথা বলে ডাক্তার তরফদার বুঝতে পারেন জোছনার স্বপ্নের যৌক্তিকতা আছে, আছে সত্যতা। তাছাড়া জোছনার মন বন্দি অজানা এক জমিদারবাড়ির গোপন কক্ষে যেখানে অনেক ধনসম্পদ রয়েছে। জোছনা চেষ্টা করেও বের হতে পারছে না ঐ গোপন কক্ষ থেকে। যদি তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হয় নিশ্চিত মৃত্যু হবে তার।
শেষ পর্যন্ত কি ডাক্তার তরফদার খুঁজে পেয়েছিলেন গোপন ঐ কক্ষটা? উদ্ধার করতে পেরেছিলেন জোছনাকে? আর ঐ ছায়াটাই বা কে ছিল? কেন অনুসরণ করত জোছনাকে? কী উদ্দেশ্য ছিল জোছনার ঐ ছায়ার?
এই বইটি প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। দাম ৩০০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।
ভৌতিক উপন্যাস ‘মৃত্যুপ্রাসাদ’
আশিক অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নিশিনির দিকে। নিশিনি সুন্দর, অপূর্ব সুন্দর। লাল শাড়িতে যেন তাকে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। অথচ এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম পৈশাচিকতা। কে বলবে নিশিনির মতো সুন্দরী নারী মানুষের রক্তপানে অভ্যস্ত। আজ নিশিনি জোর করে তার রক্তপান করবে। কিন্তু আশিক চাচ্ছে না নিশিনি তার রক্তপান করুক। তাই মৃত্যুপ্রাসাদ থেকে পালানোর সিদ্ধান্ত নিল সে। কিন্তু পারল না। নিশিনি আর তার দুই নারী সঙ্গীর হাতে বন্দি হলো সে। এখন সে অসহায়! বড়ো অসহায়! শতবছরের পুরাতন মৃত্যুপ্রাসাদে হয়তো কেউ আসবে না তাকে উদ্ধার করতে।
ক্ষেত্রে তার একমাত্র পরিণতি মৃত্যু। কিন্তু মারা যেতে চায় না সে। বাঁচতে চায়। বাঁচতে চায় তার স্ত্রী মুনমুনের জন্য, যাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। সে-ই মুনমুন তাকে উদ্ধার করতে প্রবেশ করেছে মৃত্যুপ্রাসাদে। নিশিনির ফাঁদে পা দিয়েছে সে। তার নিজেকে বাঁচাতে হলে রক্তপান করতে হবে নিজ স্ত্রী মুনমুনের। এরকমই ভয়ংকর শর্ত দিয়েছে নিশিনি, যা পালন করা আশিকের পক্ষে অসম্ভব।
শেষ পর্যন্ত কি বাঁচতে পেরেছিল আশিক আর মুনমুন? আর কী ঘটেছিল রক্তপিপাসু নিশিনির ভাগ্যে?
এই বইটি প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। দাম ২৫০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।
সায়েন্স ফিকশন ‘ইলিন’
২২২০ সাল।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাগারের প্রধান প্রফেসর রাইবাট। ব্যস্ততার কারণে তিনি এবং তার চিকিৎসক স্ত্রী মিলিনা সময় দিতে পারেন না একমাত্র সন্তান হ্যারিকে। তাই দশ বছরের হ্যারির জন্য একটি ক্লোন কিনেছেন তিনি, নাম ইলিন। ইলিনকে পেয়ে হ্যারি মহাখুশি। ইলিন তার জীবনে এনে দিয়েছে নতুন আনন্দ, জীবনকে করেছে প্রাণবন্ত, উচ্ছল। হ্যারিকে আনন্দিত দেখে দারুণ খুশি প্রফেসর রাইবাট এবং তার স্ত্রী। কিন্তু তাদের দুজনের কেউই জানতেন না তাদের বিরুদ্ধে চলছে গোপন ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের মূলে রয়েছেন তার সহকারী কমান্ডার বিক্স এবং পৃথিবীর অন্যতম ক্লোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লিওক্সের প্রধান লিটলি বাট। তাদের অনৈতিক দাবি পূরণ না-করার কারণে তারা হত্যা করেন প্রফেসর রাইবাট এবং তার স্ত্রীকে। দোষ চাপান নিষ্পাপ অসহায় আর সকলের প্রিয় ইলিনের ওপর। ইলিনকে ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ। অন্যদিকে হ্যারি বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকে ইলিনকে। কিন্তু সবাই যে ইলিনের বিরুদ্ধে।
শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল ইলিনের ভাগ্যে? আর হ্যারি কি পেরেছিল তার বাবা-মায়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে?
এই বইটি প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। দাম ২৫০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন বায়জিদ আহমেদ।
সায়েন্স ফিকশন ‘ইডিন’
ভিনগ্রহের হৃদয়বান কেউ ভালোবেসেছিল পৃথিবীর এক নভোচারীকে। তারপর!
বইটি প্রকাশ করেছে কথাপ্রকাশ। দাম ২৫০ টাকা।









