মূল লড়াই শুরু হওয়ার আগে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে না অস্ট্রেলিয়া। ফতুল্লার দুর্গন্ধকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন তারা। কিন্তু প্রশ্ন হল, বিসিবি এতদিন সময় পেয়েও কেন ওই দুর্গন্ধ দূর করতে পারল না? আর কেনই বা এমন লজ্জার, বিব্রতকর আর বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হল? এর জন্য দায়ী কে?
দায় সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠলে এদেশে একটা পুরনো স্বভাব সবার আগে সামনে চলে আসে। এই যেমন দেশের বড় বড় শহরে জলাবদ্ধতার জন্য কর্তারা একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে পর্দার আড়ালে চলে যেতে চেয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বিসিবি দায় চাপাচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ঘাড়ে। এনএসসির সঙ্গে বেশ কয়েকবার সভা করেও নাকি দুর্গন্ধ দূর করা যায়নি।
বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘মাঠের মালিকানা আমাদের হাতে দিলে আমরা এর সমাধান করতে পারতাম।’
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গতকালও দল নিয়ে বড় একটি সমস্যার সমাধান দিলেন। মুমিনুলকে ফেরালেন প্রথম টেস্টের দলে। এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরের সময়ও অনেক বিতর্কের সমাধান করেছিলেন। হকির ভাল-মন্দের অভিভাবকও তিনি। ক্রীড়াঙ্গনের ‘বলিষ্ঠকণ্ঠ’। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জমি নিয়ে যখন সমস্যা, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হয়ে সমাধান করেছিলেন। কিন্তু এই দুর্গন্ধ নিয়ে এখনও তিনি নীরব! তার এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সেই স্বাভাবিকতার পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন উঠছে, তবে কি প্রস্তুতি ম্যাচটির গুরুত্বই বুঝতে পারেনি বিসিবি?
বাংলাদেশে এসে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলা অস্ট্রেলিয়ার জন্য সমস্যা নাও হতে পারে। তাদের আচরণও তেমনটা বলছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি অনেক কিছু ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটা হওয়ার কথা ছিল বিসিবি একাদশের সঙ্গে। যে দলে নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু জায়েদ রাহী, ইরফান শুক্কুরের মতো উদীয়মান ক্রিকেটাররা ছিলেন। ভবিষ্যৎ ক্রিকেটাররা টানা তিন বছর হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) স্কোয়াডে থেকে কতটা শিখলেন তা পরখের আদর্শ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারত দুইদিনের ম্যাচটি। যা হয়নি, তা নিয়ে আফসোস করে আর লাভ নেই। চলুন আবার ওই দুর্গন্ধ সংক্রান্ত আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক।
অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে এসে টেস্ট সিরিজের আগে ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে; এই সূচি চূড়ান্ত হয়েছিল ১৬ জুন। অর্থাৎ দুই মাসের বেশি সময় আগে। তার আগে থেকেই সেখানে জলাবদ্ধতা। কিছুটা প্রাকৃতিক কারণ, তবে মনুষ্য-সৃষ্ট জটিলতাই বেশি। স্থানীয় শিল্পকারখানা থেকে আসা রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত পানি প্রবেশ করায় অনেকদিন ধরেই প্লাবিত ফতুল্লা স্টেডিয়ামের প্রবেশপথ, আউটার মাঠ ও মূল মাঠের অর্ধেকটা। দেখার কেউ ছিল না! এমন কাণ্ড পৃথিবীর খুব কম দেশে দেখা যায়। শেষ সময়ে এসে চারটি মোটর লাগিয়ে পানি সরানো গেলেও দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত করা যায়নি পুরো এলাকা।
দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় আউটার স্টেডিয়ামে এখন প্রায় এক-দেড় ফুট পচা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, কিছু জায়গায় পানিও জমে আছে। তা থেকে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় ছড়াচ্ছে চরম দুর্গন্ধ।
গত মাসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পরামর্শক শন ক্যারল যখন দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশে এলেন, তখন প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু ফতুল্লা পরিদর্শন করতে পারেননি। হেলিকপ্টারে চড়ে উপর থেকে প্লাবিত ভেন্যু পরিদর্শনের পর মিরপুর, চট্টগ্রাম ভেন্যু দেখেছেন খুটেখুটে। তারপরও হাতে ছিল এক মাস। দিন শেষে ‘যে লাউ সেই কদু’ অবস্থা। ‘পুষ্টি’ বুঝি একটু বেশি।
পুষ্টি= লজ্জা!









