সামনের ৭ মার্চ মুশফিকের স্মৃতিতে পুরনো একটা দিন ভেসে আসবে। মুশফিক নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন ২০০৭ সালের এক ৩ জুলাইয়ের কথা। যেদিন তিনি জাতীয় দলের হয়ে টেস্টে প্রথম উইকেটের পেছনে দাঁড়ান। ওই ৩ জুলাই আর এই ৭ মার্চে অদ্ভুত একটা মিল আছে। প্রতিপক্ষ একই। মাঠটাও এক; কলোম্বর পি সারা স্টেডিয়াম! অমিলও নেহাত কম নয়। ১০ বছর বাদে সেই মাঠেই যে তিনি এই সফরের প্রথম টেস্টে গ্লাভস ছাড়া খেলতে নামবেন।
একজন খেলোয়াড়ের উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে এত ভূমিকা কেন? উত্তরটা দিতেও ভূমিকা করতে হবে। তিনি নিজেই বারবার বলেছেন, ছেলেবেলা থেকে যে কিপিংয়ের সাধনা করে আসছেন এই বয়সে তা ছাড়তে চান না। এক প্রকার জেদ করেই গত কয়েক বছরে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেই মুশফিক যখন সরে যাচ্ছেন, তখন কথা না বলে উপায় আছে?
উইকেটের পেছন থেকে মুশফিককে সরাতে কোচ হাথুরুসিংহে লিটন কুমার দাস এবং নুরুল হাসান সোহানকে দলে টেনে আনেন। সময়ের স্রোতে সোহান এখন দলের বাইরে থাকলেও লিটন ঠিক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচের পরীক্ষায় প্রথমদিন ‘পাশ’ নম্বর পেয়েছেন। মুশফিকের ২১ রানে ফিরে যাওয়ার দিনে তিনি ৫৭ করে অপরাজিত আছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান তিনি। লম্বা ইনিংস খেলার অভ্যাসে চৌকস। তার প্রতি কোচের তাই অগাধ আস্থা।

লিটন এদিন ৬৪টি বল খেলেছেন। চার হাঁকিয়েছেন ১০টি। বল বুঝে ডিফেন্স করেছেন, কখনো উঠে খেলেছেন, কখনো সিঙ্গেল নিয়েছেন। এমন একটা দিনের পর তার প্রতি কোচের আস্থা বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
তবে ঘটনা ঘটেছে অন্য আরেক জায়গায়। লিটনকে উইকেটের পেছনে জায়গা দিতে টেস্টের নিয়মিত সদস্য যে কোনো একজনকে সরে দাঁড়াতে হবে। সেই ‘বলির পাঠা’ কে হবেন সেটাই দেখার বিষয়। পরিস্থিতি বলছে এই শঙ্কায় রাত পার করবেন সাব্বির রহমান। কেননা আর বাকি যে দশজন আছেন, তাদের জায়গা মোটামুটি পাকা।
সাব্বিরের তুলনায় লিটনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অতটা পাকা নয়। সাব্বির ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টিতে নিয়মিত খেলছেন। টেস্টেও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠার আভাস দিচ্ছেন। অন্যদিকে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তিনটি টেস্ট খেলেছেন লিটন। তিন ম্যাচে তিন ইনিংসে ব্যাট করে ৩২.৩৩ গড়ে করেছেন ৯৭ রান, সর্বোচ্চ ৫০। লিটন এগিয়ে থাকছেন উইকেটকিপিং দক্ষতা আর ঘরোয়া ক্রিকেটে লম্বা লম্বা ইনিংস খেলার যোগ্যতা দিয়ে। কয়েকদিন আগেও ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। এবার জাতীয় দলে ভালো করতে পারলে মুশফিকের জন্য চ্যালেঞ্জটা বেড়ে যাবে। কেননা মুশফিক এখন শুধুই ব্যাটসম্যান। টিকে থাকতে হলে বেশি বেশি রান করতে হবে। অধিনায়ক নিশ্চয়ই এসব জানেন। আর জানেন বলেই হয়তো পাথর মনের শক্তি দিয়ে জায়গা ধরে রাখবেন।
কে জানে কোনো একদিন ওই উইকেটের পেছনে আবার ফিরেও তো আসতে পারেন!









