উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ
চাহিদাকে চাঙ্গা রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
অর্থ সচিব মাহাবুব আহমেদ
বলেছেন, প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগের বিকল্প না থাকলেও কাঙ্ক্ষিত হারে
বিনিয়োগ না এলে বিকল্প হলো ভোগকে উজ্জীবিত রাখা।
গত বছরের চেয়ে ৪৬ হাজার
কোটি টাকা বিনিয়োগ বেশি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, ১৪-১৫ অর্থ বছরে বিনিয়োগ হয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ১৫-১৬ অর্থ বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগ হয়েছে।
এ সময় শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশ। কৃষি খাতে ১৪-১৫ সালে প্রবৃদ্ধি ছিলো -৫.৪ শতাংশ, ১৫-১৬ অর্থ বছরে সেটা বেড়ে হয়েছে ১৪ শতাংশ। রপ্তানি খাতে ১৪-১৫ অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি ছিলো ২.৬ শতাংশ, ১৫-১৬ অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ শতাংশ। আমদানি খাতে ১৪-১৫ অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি ছিলো -১ শতাংশ, ১৫-১৬ অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৫ শতাংশ।
অর্থসচিব মনে করছেন; কাঠামো রূপান্তরে বৃহৎ ১০ মেগা প্রকল্প অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি করবে। এতে বিনিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ দুটোতেই গতি আসবে।
তিনি মনে করেন, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য সাধারণ ধারণা হলো বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ যদি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হয় তাহলে বিকল্প পথও আছে।
মাহাবুব আহমেদের মতে, বর্তমানে যে পরিমাণ বিনিয়োগ আছে তার দক্ষতা বাড়াতে হবে। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এটা সরকারের নিজস্ব হিসাবের প্রেক্ষিতে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাংকও এই কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দেশের মধ্যে চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরী হলে সেটা জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিনিয়োগ যেভাবে জিডিপিতে অবদান রাখে তার চেয়ে জেএনআই জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব।
জিডিপি বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রস ন্যাশনাল ইনকাম (জেএনআই) বাড়ানোর উপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
উচ্চাভিলাষী বাজেট, কাজেই বাস্তবায়ন হবে না-এমন তত্ত্বকে না বলে সরকারের এই জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, সাড়ে ১৭ লাখ কোটি টাকার জিডিপি’র তুলনায় ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা মোটেই বড় নয়। আরো বড় বাজেট করার অবকাশ রয়েছে বাংলাদেশের।
৩ লাখ ৪০ হাজার ৬’শ ৫ কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনায় গত ৭ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো সরকারের দর্শন প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখা আর সুষম বন্টন। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথা বলেছেন।
আগামী ৫ বছরে অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ বাড়ানো গেলে বছরে অতিরিক্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১ শতাংশ, এমন আশবাদও তার। বেসরকারী বিনিয়োগে যে ধীরগতি তাও কেটে যাবে বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।









