প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি এবং কবি ও লেখক মাহবুবুল হক শাকিল মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
তার বয়স হয়েছিল ৪৮। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা, মা-বাবা এবং এক ভাই ছাড়াও রাজনীতির অঙ্গনে অনেক অনুসারী এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ সহকারির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, তার মৃত্যুতে জাতি একজন বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক ও দক্ষ সংগঠককে হারালো। ‘একজন ছাত্রনেতা হিসেবে মাহবুবুল হক শাকিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।’
শাকিলের মরদেহ আপাতত: বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ শহর ময়মনসিংহে তাকে দাফন করা হবে বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
তার মৃত্যুর খবরে দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা ছাড়াও কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা যে রেস্টুরেন্টে শাকিল শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন সেখানে ছুটে যান।
পরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনে সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যুর খবর জানান।
সাধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।
তবে, নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারসহ ৭ জনকে নিয়ে গেছে পুলিশ।
শাকিল এক সময় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। স্কুল জীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
নব্বই’র ছাত্রগণঅভ্যুত্থান ও পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শাকিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা শাকিল ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারায় জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তার বেড়ে উঠা। ময়মনসিংহের জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
তার আইনজীবী বাবা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক এবং মা স্কুলশিক্ষক নুরুন্নাহার খান। বাবা-মা দু’জনই ময়মনসিংহে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শাকিলের স্ত্রী একজন আইনজীবী। তাদের একমাত্র মেয়ে আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে।
নিজ দলের বাইরে অন্য দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও তিনি সজ্জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনেও প্রিয় এক নাম ছিল মাহবুবুল হক শাকিল।
গত বছরের (২০১৫) একুশে বইমেলায় তার প্রথম কবিতার বই ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ প্রকাশিত হয়। আর ২০১৬ বইমেলায় প্রকাশ হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘মন খারাপের গাড়ি’। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা শাকিলের সর্বশেষ স্ট্যাটাসটিও একটি কবিতা।
আগামী বইমেলার জন্য তার একাধিক বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়ে আছে। এমনকি কবিতার বইটির প্রকাশনা উৎসবের তারিখ ঠিক হয়ে আছে ৬ ফেব্রুয়ারি। তার আগে তার জন্মদিন ২০ ডিসেম্বর।









