চট্টগ্রাম থেকে: নাঈম হাসানের রেকর্ড ৫ উইকেট শিকারে ৭৮ রানের লিড। তাতে বেশ স্বস্তি নিয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরেছিল বাংলাদেশ দল। বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামতেই চারপাশে অস্বস্তির অন্ধকার। নাঈম-দ্যুতিতে পাওয়া দারুণ দিনটা শেষ হল তালগোল পাকানো ব্যাটিং ব্যর্থতায়।
শুক্রবার চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে স্বাগতিকরা এগিয়ে ১৩৩ রানে, হাতে ৫ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ-৩২৪ ও ৫৫/৫, উইন্ডিজ-২৪৬ (দ্বিতীয় দিন শেষে)
মুশফিকুর রহিম ১১ ও মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। শেষবিকেলে একে একে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস ২, সৌম্য সরকার ১১, মুমিনুল হক ১২, সাকিব আল হাসান ১ ও মোহাম্মদ মিঠুন ১৭ রানে।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উইকেটে সাপের মতো বাঁক। কখনও বল দিচ্ছে ছোবল। নিখাদ এক ঘূর্ণিফাঁদ। যেখানে দ্বিতীয় দিনে উইকেট পড়েছে মোট ১৭টি। দুই দিনে ২৪টি। এই টেস্ট পঞ্চম দিনে গেলে সেটি হবে মহাবিস্ময়ের!
সিরিজের প্রথম টেস্ট কয়দিনে শেষ হচ্ছে তার ধারণা হয়ত পাওয়া যাবে তৃতীয় দিন সকালের সেশনেই। প্রথম দিন থেকেই উইকেটে মিলেছে টার্ন। দ্বিতীয় দিন সেটি আরও বাড়বে তা অনুমেয় ছিল। তৃতীয় সেশনেই উইকেট পড়েছে ৯টি। যার মধ্যে উইন্ডিজের চারটি, বাংলাদেশের পাঁচটি।
৮ উইকেটে ৩১৫ রানে প্রথম দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে শেষ দুটি উইকেট থেকে যোগ হয় আরও ৯ রান। বাংলাদেশের করা ৩২৪ রানের জবাবে উইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪৬ রানে।
অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন চট্টগ্রামের ছেলে নাঈম। ১৪ ওভার বোলিং করে ৬১ রান দেন এ অফস্পিনার।
উইন্ডিজ ইনিংসের প্রথম উইকেটটি নেন তাইজুল ইসলাম, কাইরেন পাওয়েলকে এলবিডব্লিউ করে। আঙুলের চোট কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক সাকিব আল হাসান উইকেট নেন নিজের প্রথম বলে। প্রথম ওভারে জোড়া আঘাতের পর নেন আরও একটি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ২০০ শিকার থেকে এক উইকেট দূরে এ বাঁহাতি স্পিনার।
মেহেদী হাসান মিরাজ সাজঘরে পাঠান উইন্ডিজের সর্বোচ্চ ৬৩ রানের ইনিংস খেলা শিমরন হেটমায়ারকে। ৯২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি ভেঙে আড়াইশর আগে অতিথি দলকে গুটিয়ে দিতে দারুণ ভূমিকা রাখেন এ অফস্পিনার। স্পিনস্বর্গে মোস্তাফিজুর রহমান করেন মাত্র দুটি ওভার।









