আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মে বাঙালি খুঁজে পায় মুক্তির স্বাদ।
সাম্য, মানবতা, প্রেম ও প্রকৃতির কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী এবার জাঁকজমকভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কালজয়ী অমর সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শততম পূর্তি উপলক্ষ্যে এবার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিদ্রোহী’র শতবর্ষ’। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লায়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির জাতীয় জাগরণের তূর্যবাদক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্রের রূপকার।তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সৃজনশীল কর্ম জাতির অন্তহীন অনুপ্রেরণার উৎস। কবির ক্ষুরধার অগ্নিঝরা লেখনি শোষিত-নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে, শিক্ষা দেয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী কবি। তিনি শুধু নিজের ধর্ম, সমাজ-সম্প্রদায়, দেশ ও কালের গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেননি, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছেন, নারীর অধিকারকে করেছেন সমুন্নত। তার সৃষ্টি সর্বজনের, সর্বকালের।
আবদুল হামিদ বলেন, নজরুলের সৃজনশীল কর্ম বাংলা সাহিত্যে তো বটেই, বিশ্ব সাহিত্যেও বিরল। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কবির গান ও কবিতা মুক্তিকামী মানুষকে অনিঃশেষ প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর লেখনি থেকেই জাতি বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা-আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান এবং মুক্তিয্দ্ধুসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা পেয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নজরুলের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান স্বাতন্ত্র মহিমায় সমুজ্জ্বল। মানবতা, সাম্য ও দ্রোহের কবি নজরুল। স্বল্পকালীন সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি রচনা করেছেন প্রেম, প্রকৃতি, বিদ্রোহ ও মানবতার অনবদ্য সব কবিতা, গান, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও নাটক।
শেখ হাসিনা বলেন, কালজয়ী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুল তার লেখনির মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার সাহিত্যকর্মে উচ্চারিত হয়েছে পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের বাণী। অসামান্য ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবোধের মূর্ত প্রতীক।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জীবনাদর্শ একই দর্শনের ধারাবাহিক রূপ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিও দেশের জন্য, জাতির জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন। মহান মানবতাবাদী কবি নজরুলের সংগ্রামশীল জীবন এবং তার অবিনাশী রচনাবলী জাতির জন্য অন্থহীন প্রেরণার উৎস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন নজরুলের রচনা আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে সকল কূপমুন্ডকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ, সুখী-সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তিনদিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।দিবসটি উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আলোচনা সভা, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করবে।
এছাড়া যে সকল জেলায় জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নজরুল জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে না, সে সকল জেলার জেলা প্রশাসকগণ স্থানীয় সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সহযোগিতায় কমিটি গঠন করে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করবে। জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন টেলিভিশন চ্যানেলসমূহ সম্প্রচার করবে।
দিবসটি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি আজ এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে । অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে,সকাল সাড়ে ৬ টায় কবির সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনাতনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনা করবেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিষ্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. হাকিম আরিফ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঐক্যডটকমডটবিডি চ্যানেল আই ‘নজরুল মেলা’ চ্যানেল আই প্রঙ্গণ থেকে সরাসরি প্রচার হবে সকাল ১১.০৫ মিনিটে। এছাড়া সকাল ৭:৩০ মিনিটে স্টুডিও থেকে সরাসরি দেখানো হচ্ছে নজরুল সঙ্গীশিল্পীদের অংশহগ্রহণে গান দিয়ে শুরু।দুপুর ৩:০৫ মিনিটে রয়েছে গীতালি হাসান পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’। এবং রাত ১০ টায় প্রচার হবে ফেরদৌস আরার পরিবেশনায় রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয় নিবেদিত নজরুল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান ‘চন্দ্রমলিকা’।









