হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ ১৩ নভেম্বর। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। এই কিংবদন্তির জন্মদিন উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণের চেতনা চত্বরে সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত হল ‘হুমায়ূন মেলা’। অভিনেতা, মঞ্চ নির্দেশক, নির্মাতার মধ্যে অনেকেই এসেছিলেন এই মেলায়।
১১টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এই মেলায় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। তিনি বলেন, হুমায়ূন যেমন বাংলা সাহিত্যের সম্পদ ঠিক তেমনি নাটক, গান, চিত্রশিল্প ও চলচ্চিত্রেও তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। চ্যানেল আই প্রতি বছরের এই বিশেষ দিনটিতে তাকে স্মরণ করে আসছে, সামনেও তার সৃষ্টির মাধ্যমে তাকে আমরা এভাবেই স্মরণ করবো।
‘হুমায়ূন মেলা’য় দেয়া বক্তব্যে নাট্য নির্দেশক ও গুণী অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ গল্প বলার জাদু জানতেন। ধারাবাহিক তৈরি করার সময় কীভাবে সিচুয়েশন তৈরি করতে হয়, সেটাও তিনি ভালো জানতেন। তিনি নিজস্ব পাঠক তৈরি করতে পেরেছিলেন। হুমায়ূনের জয় হোক।’
এদিকে নির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে উদযাপন হয় তার লেখনি শক্তির জন্য। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সামনে যে চরিত্রগুলো দাঁড় করিয়েছেন, সেটা হিমু হতে পারে, মিসির আলি হতে পারে, বাকের হতে পারে, সেই চরিত্রগুলো একটি চেনা এবং অচেনা জগত তৈরি করেছিল। মানুষ যে ভাষায় কথা বলে, সে ভাষার ব্যবহারের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন। সম্ভবত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে সাধারণ মানুষের মাঝে পাঠ অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। এই পাঠ অভ্যাস প্রায় ছিল না বললেই চলে। মধ্যবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, হুমায়ুনের কারণে সেটা নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সর্বগ্রাসী হুমায়ুন হয়ে উঠলো।
১১টা ৫ মিনিটে শুরু হয় ‘আনোয়ার সিমেন্ট-চ্যানেল আই হুমায়ূন মেলা’র অনুষ্ঠান। বিভিন্ন অঙ্গনের হুমায়ূন ভক্ত ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন মেলায়। হলুদ বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় হুমায়ূন মেলার। মেলা প্রাঙ্গণে এসময়ে হলুদ পাঞ্জাবী আর নীল শাড়ি পরে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য হিমু ও রূপা। বিভিন্ন অঙ্গনের হুমায়ূন ভক্ত ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন মেলায়।









