প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মধ্যে হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় নেয়ার পাশাপাশি চার দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী উপাচার্যের কার্যালয় পর্যন্ত মৌন পদযাত্রা করে তারা উপাচার্য কার্যালয় যান ও পরে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমদ, প্রো উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সামাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী।
এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সেখানে যোগ দেন এবং ছাত্রলীগের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বিবেক। এখানে পড়ার জন্য সবাই অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি। আমরা চাই মেধাবীরা যেন বঞ্চিত না হয়। যেখানে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসনও স্বীকার করেছে। মিডিয়াতে এসেছে। আমরা চাই আবার পরীক্ষা নেয়া হোক। যদি সম্ভব না হয়, তবে যারা পাস করেছে তাদেরটা নেয়া হোক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি পাঠ করেন।
চার দাবি
১. যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া অথবা শুধুমাত্র উত্তীর্ণদের নিয়ে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।
২. প্রশ্নফাঁস বা ডিজিটাল জালিয়াতির সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. অতীতে যারা প্রশ্নফাঁস করে ভর্তি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. ভর্তি পরিক্ষা পদ্ধতি আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে হবে।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান বলেন, এটি ছাত্রলীগের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরাও চাই প্রশ্নফাঁসের মূলোৎপাটন করতে।
‘‘আমরা আমাদের মতো আগাচ্ছি। মঙ্গলবার বিকেলে ডিন’স কমিটির মিটিং আছে। আমি সেখানে আপনাদের দাবি উত্থাপন করব। আশাকরি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’’
গত ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে।
ওইদিন পরীক্ষা শুরুর ৪৩ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে হাতে লেখা প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তখন প্রশ্নফাসের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।









