এশিয়া কাপের পঞ্চম ম্যাচে আজ রোববার একে-অপরের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, কিন্তু মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারাকে ছাড়া তাদের ব্যাটিং লাইনআপটা বেশ নড়বড়ে অবস্থানে। লাসিথ মালিঙ্গার বোলিং দাপটে প্রথম ম্যাচে অপেক্ষাকৃত ‘ছোট’ প্রতিপক্ষ আরব আমিরাতের সাথে জিতলেও ব্যাটিং কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি।
শ্রীলঙ্কার মতো ব্যাটিং সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশও। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৪৫ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা। পরের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যে জিতেছে তার পুরোটাই প্রায় বোলারদের কারণে।
এশিয়া কাপ শুরুর আগে ভারতের কাছে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের সিরিজ ২-২ ড্র করে বাংলাদেশ। লঙ্কান দলে ওপেনার দিনেশ চান্দিমাল ছাড়া কেউই ফর্মে নেই। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তিলেকারত্মে দিলশান রান পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, ইনফর্ম ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে নিজেদের সেভাবে তুলে ধরতে পারছেন না ওপেনার সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েসরা।
তবে দুই দলের বর্তমান অবস্থা বিচারের আগে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে রেকর্ড মোটেও সুখকর নয় বাংলাদেশের। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০তে হারে বাংলাদেশ। এরপর দেশের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপেও হারে তারা।
টি-২০ ফরমেটে ২ বছর পর আবারও দেখা হচ্ছে দুই দলের। তবে এবার দিন বদলেছে। বদলেছে দুই দলের শক্তিও। ওয়ানডে ফরমেটে গেল বছরটা বাংলাদেশের কেটেছে এক রকম স্বপ্নের মতো। টি-২০তে বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিতেছে। এর মধ্যে বড় জয়টা পাকিস্তানের বিপক্ষে।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের এটি আসরে টিকে থাকার লড়াই। ভারতের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরাতকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আসরে টিকে থাকার পথ খুঁজে পেয়েছে টাইগাররা। এবার লঙ্কানদের হারাতে পারলে ফাইনালে খেলার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে মাশরাফি বাহিনী।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে। আগের ম্যাচে ভালো করায় সুযোগের অপক্ষোয় থাকা তরুণ পেসার আবু হায়দার রনি ও বাঁ-হাতি স্পিনার আরাফাত সানির অপেক্ষা আরো বাড়তে পারে। শ্রীলঙ্কা দলে তেমন কোনো সম্ভাবনা এখনো নেই ।
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা এই পর্যন্ত টি-২০তে মুখোমুখি হয়েছে ৪ বার। কিন্তু টাইগারদের কখনো জয়ের দেখা মেলেনি। ২০০৭ সালে প্রথম দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। এরপর ২০১৩ সালে একবার ও ২০১৪ সালে দুই ম্যাচের সিরিজেও হারে টাইগাররা।
মুখোমুখি সাক্ষাতে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে থাকলেও দুই দলের বর্তমান শক্তির ভারসাম্যের মতো সাম্প্রতিক জয়-পরাজয়েও ভারসাম্য রয়েছে। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে উভয় দলই তিনটি করে ম্যাচে হেরেছে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে লাইমলাইটে থাকবেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আগের ম্যাচে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পর ৫ রানে ২ উইকেটে নিয়ে দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিপক্ষে বিরুদ্ধে দারণ কিছু করে দেখাতে পারেননি তিনি।
এছাড়া বোলিংয়ে মুস্তাফিজ আছেনই। সেই সাথে জ্বলে উঠতে পারেন আসরে এখনো অনুজ্জ্বল সাকিব-মুশফিকের যে কেউ। এই ম্যাচে অবশ্য নতুন এক মাইলফলকের সামেন দাঁড়িয়ে সাকিব। আর ৮৭ রান করতে পারলেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-২০তে ১০০০ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করবেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে অবশ্যই একনম্বরে থাকবেন দিনেশ চান্দিমাল। কুশাল পেরেরার জায়গায় ওপেন করার সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচের নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন তিনি। বোলিংয়ের নেতৃত্বে মালিঙ্গার সাথে থাকবেন নুয়ান কুলাসেকারা। এছাড়া অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের স্লো মিডিয়ামের সঙ্গে রঙ্গনা হেরাথের স্পিন ঘূর্ণি বিপদে ফেলতে পারে টাইগারদের। কোনো টেস্ট খেলা দলের মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-২০তে মালিঙ্গার ইকোনোমি রেট সবচেয়ে ভালো(৬.৪৩)।
আগের সবগুলো ম্যাচের পিচের মতো এই ম্যাচে সবুজ পিচ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। আর সেটা হলে একটি লো-স্কোরির ম্যাচই হয়তো হতে যাচ্ছে আজ। এই ম্যাচেও প্রকৃতির কোনো চোখ রাঙানি এখন পর্যন্ত নেই। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ওয়েদার ডটকমের সূত্রানুযায়ী এদিন ঢাকা আকাশ ঝকঝকেই থাকবে।
সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স, বর্তমান দলীয় শক্তির বিচারে আজকের ম্যাচে বাঘ-সিংহের ধুন্ধুমার লড়াই হবে বলে অনুমান। ঘরের মাঠের কারণে বাংলাদেশ যেমন এগিয়ে, তেমনি দলের ইতিহাস ও ধারাবাহিকতার নিরিখে শ্রীলঙ্কাকেও পিছিয়ে রাখার উপায় নেই।
ক্রিকেট নিয়ে খবরা-খবর রাখা ‘টি-২০ টিকি’ ওয়েবসাইটের চালানো জরিপে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দুই দলের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫-৫৫।
সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন/নাসির হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেন, আরাফাত সানি এবং নুরুল হাসান সোহান।
সম্ভাব্য শ্রীলঙ্কা দল: তিলেকারত্নে দিলশান, লাসিথ মালিঙ্গা (অধিনায়ক), দিনেশ চান্দিমাল, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ধানুশ সানাকা, থিসারা পেরেরা, সুচিত্রা সেনানায়েক, নিরোসান দিখুয়েলা, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনে, চামারা কাপুগেদারা, ও দাশমাথ চামিরা।






