অক্টোবরে তেহেরানে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে মেয়েরাও স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখতে পারবেন। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ইরানের কর্মকর্তারা বিষয়টি এভাবেই নিশ্চিন্ত করেছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন বলে এক নারী সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শাস্তির ভয়ে তিনি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পুরো ফুটবলবিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে যায়। ফিফাও ঘটনাটি খতিয়ে দেখে।
তেহরানে মেয়েদের স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ দেখার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে চলতি সপ্তাহে ফিফা একটি দল পাঠায়। ১০ অক্টোবর তেহেরানে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ইরানের হোম ম্যাচ। ২০২২ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী পর্যায়ের ম্যাচ এটি। এই ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যাবে ইরানি মেয়েদের। ঘটনাটি বাস্তবে ঘটলে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তই বলতে হবে!
ইনফান্তিনো বলেন, ‘মেয়েদের প্রতিনিধিত্ব আমাদের প্রয়োজন। এটা শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের করতে হবে। একইসঙ্গে এই বিষয়টা নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না।’
সেইসঙ্গে ফিফা বসের মন্তব্য, ‘আমাদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ইরানের পরের আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকেই মেয়েদের স্টেডিয়ামে যেতে দেয়া হবে। তারা খেলা দেখতে যেতে পারবেন। এই বিষয়টা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা, দুটো ব্যতিক্রম ছাড়া গত ৪০ বছর এটা হয়নি। কিন্তু এই পর্যায় থেকেই পরবর্তী স্তরে পৌঁছে যাওয়াটা খুবই দরকার।’
শুধু তাই নয়, ইরানে যাতে মেয়েদের মধ্যে ফুটবল জনপ্রিয় হয়, তার জন্য ফিফা সবরকমভাবে চেষ্টা করবে বলে জানানো হয়েছে। দেশটির মেয়েরা যাতে ঘরোয়া ম্যাচ দেখতেও মাঠে যেতে পারেন, সেজন্যও আহবান জানিয়েছে ফিফা।
যে ঘটনার জন্য এত কাণ্ড, ইরানের সেই নারী সমর্থক শাহার খোদাইয়ারি একটি ছেলের ছদ্মবেশে প্রিয় দল এস্তেঘালালের ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ধরা পড়ে যান এবং শাস্তিস্বরূপ তার ছয় মাস জেল হতে পারে ভেবে গায়ে আগুন দেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
ঘটনায় ইরানসহ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সেদেশের ফুটবল সংস্থা। এমনও দাবি তোলা হয়, ফিফা অবিলম্বে ইরানের ফুটবল সংস্থাকে সাসপেন্ড করুক। ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে মেয়েদের মাঠে গিয়ে খেলা দেখা বন্ধ রয়েছে।
গত নভেম্বরে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে তেহেরানে মাঠে গিয়ে কিছু মেয়েকে ম্যাচ দেখার অনুমতি দেয়া হয়। ওই ম্যাচে ইনফান্তিনো উপস্থিত ছিলেন। পরে আবারও পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় তেহেরান। গত জুনে সিরিয়ার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন কিছু মেয়ে, তাদের আটক করা হয়।
এরপরও অবশ্য প্রশ্ন থাকছে, ইনফান্তিনোকে সেদেশের ফুটবল সংস্থা যে আশ্বাস দিয়েছে, বাস্তবে তা আদৌ ঘটবে তো? যদি তেমনটা ঘটে তা হলে বলতে হবে, সত্যিই সেই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক।









