‘চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল’ যে কবি এই পৃথিবী থেকে জঞ্জাল সরাতে চেয়েছিলেন সেই কবির ম্যুরালটি আজ জঞ্জালে পূর্ণ। নির্মাণের পর থেকেই অযত্নে পড়ে আছে। ধুলোবালির স্তর জমে গেছে ম্যুরালটির ওপর। নির্মাণের কিছুদিন পর ম্যুরালের নিরাপত্তায় দেওয়া বেড়াটি ভেঙে যায়। ফলে ম্যুরালটির মঞ্চে গরু-ছাগল উঠে প্রতিনিয়ত নোংরা করছে। কবির স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত ম্যুরালটি এ অবস্থায় দেখে কবির পৈতৃক ভিটায় ঘুরতে আসা অনেক পর্যটকই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সিকিরবাজার মোড়ে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ম্যুরালটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে নয়নাভিরাম এই শিল্পকর্মটি কোটালীপাড়াবাসীসহ গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কে যাতায়াতকারী মানুষের নজর কাড়ে।
ম্যুরালটি তৈরির কিছুদিনের মধ্যেই অযত্ন অবহেলায় পড়ে নষ্ট হতে বসেছে। এর চারপাশে অবাঞ্ছিত গাছপালা জন্মে ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এটির রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ম্যুরালটি অযত্ন আর অবহেলায় দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কবির পৈতৃক ভিটায় নানা কারণে কবি উপেক্ষিত। কবিকে নিয়ে এখানে তেমন চর্চা হয় না। এমনকি এখানে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীও পালিত হয় না। বছরে একটি মেলা করেই আমরা আমাদের দায়িত্ব এড়াতে বসেছি। একটি মেলার মধ্যে দিয়ে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানকার অনেকেই মনে করেন, আগামী প্রজন্মের কাছে কবিকে তুলে ধরতে হলে তার নামে এখানে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে তার পৈতৃক ভিটায় নির্মিত অডিটরিয়াম ও ম্যুরাল চিত্রটি সংরক্ষণ করতে হবে।









